ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

শিশুদের রোগ শনাক্তে এআই প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন উদ্যোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 15

ছবি: সংগৃহীত

 

শিশুদের রোগ দ্রুত শনাক্ত এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডিজিটাল সমাধান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সেভ দ্য চিলড্রেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় সমন্বিত শিশুরোগ ব্যবস্থাপনা (আইএমসিআই) অ্যাপের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আরও পড়ুন  অস্কারে নতুন নিয়ম চালু, চলচ্চিত্রে বৈধতা পেল এআই প্রযুক্তি

‘শিশুদের জন্য’ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ এবং সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে কাজ করবে। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুস্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

সমঝোতা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক একটি ডিজিজ সার্ভেইলেন্স ড্যাশবোর্ড এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বহুভাষিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি ও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রযুক্তি স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রোগের প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

এ ছাড়া নিরাপদ ও ব্যক্তিগত পরিচয়বিহীন স্বাস্থ্যতথ্য বিনিময়, নতুন ডিজিটাল টুলস উন্নয়ন, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সফল উদ্যোগগুলো দেশব্যাপী সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন বলেন, আইএমসিআই অ্যাপটি দেশের সব এলাকায় সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তার মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন কোনো মডিউল যুক্ত হলে তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অ্যাপটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, শিশুদের সময়মতো মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার এমন হতে হবে, যাতে তা শিশুদের রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সমঝোতা স্মারকটি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের উদ্ভাবিত ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই) পদ্ধতির মূল লক্ষ্য পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা, মৃত্যুহার এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা কমিয়ে আনা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় চালু হওয়া ডিজিটাল আইএমসিআই অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যনির্ভর শিশুস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের রোগ শনাক্তে এআই প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৭:২৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

শিশুদের রোগ দ্রুত শনাক্ত এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডিজিটাল সমাধান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সেভ দ্য চিলড্রেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় সমন্বিত শিশুরোগ ব্যবস্থাপনা (আইএমসিআই) অ্যাপের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আরও পড়ুন  এআই প্রযুক্তির কারণে ডিবিএস ব্যাংকে ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল সিঙ্গাপুর

‘শিশুদের জন্য’ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ এবং সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে কাজ করবে। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুস্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

সমঝোতা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক একটি ডিজিজ সার্ভেইলেন্স ড্যাশবোর্ড এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বহুভাষিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি ও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রযুক্তি স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রোগের প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

এ ছাড়া নিরাপদ ও ব্যক্তিগত পরিচয়বিহীন স্বাস্থ্যতথ্য বিনিময়, নতুন ডিজিটাল টুলস উন্নয়ন, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সফল উদ্যোগগুলো দেশব্যাপী সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন বলেন, আইএমসিআই অ্যাপটি দেশের সব এলাকায় সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তার মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন কোনো মডিউল যুক্ত হলে তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অ্যাপটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, শিশুদের সময়মতো মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার এমন হতে হবে, যাতে তা শিশুদের রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সমঝোতা স্মারকটি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের উদ্ভাবিত ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই) পদ্ধতির মূল লক্ষ্য পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা, মৃত্যুহার এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা কমিয়ে আনা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় চালু হওয়া ডিজিটাল আইএমসিআই অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যনির্ভর শিশুস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর হয়েছে।