আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন, বেনজীর প্রত্যর্পণে আশাবাদ সরকার
- আপডেট সময় ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 18
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর দুবাই কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি জানান, রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের ফেডারেল পুলিশ ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর সুযোগ দিলেও বাংলাদেশ সরকার এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা ১৪৪ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নথি প্রস্তুত করেছেন। এতে আদালতের পরোয়ানা, মামলার বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, নথিগুলোতে স্বাক্ষর করার পর সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি কেবল প্রত্যাশার নয়, বরং দৃশ্যমান প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইউএই সরকার তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি বা বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এজাহার, মামলার বিবরণী এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতোমধ্যে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
























