সুপার এল নিনোর শঙ্কা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে
- আপডেট সময় ০৭:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 14
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের নজর এখন ‘এল নিনো’ নামের প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের দিকে। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট এই আবহাওয়া ব্যবস্থা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের ধরন বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও অনুভূত হতে পারে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে গেলে উষ্ণ সমুদ্রের পানি পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) জানিয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হওয়ায় নতুন এল নিনো পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
কেন শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা?
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির বিশাল স্তর জমে রয়েছে। কিছু এলাকায় এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকে, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। নোয়ার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৩ শতাংশ।
বিশ্বে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?
শক্তিশালী এল নিনো সাধারণত খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় খরার প্রবণতা বাড়তে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে ২০২৭ সাল রেকর্ডের অন্যতম উষ্ণ বছর হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?
আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব মাঝারি থেকে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এর ফলে—
* তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়তে পারে।
* মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে।
* কিছু এলাকায় খরাসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
* আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
* নদীর পানিপ্রবাহ কমে গেলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে ৮ থেকে ১০টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে জুন মাসেই তিন থেকে চারটি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন প্রস্তুতি:
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো বাংলাদেশের আবহাওয়া নির্ধারণের একমাত্র নিয়ামক নয়। ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক জলবায়ুগত প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এল নিনো নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ, খরা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
























