ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

আসন্ন গ্রীষ্মেই বিশ্বজুড়ে আছড়ে পড়তে পারে ‘এল নিনো’, যা গত ১৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। মার্কিন জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সাধারণ এল নিনো নয়, বরং ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে আগামী বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ খরা, বন্যা ও সামুদ্রিক ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাংশের উপরিভাগের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হলে তাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। তবে সমুদ্রের এই উষ্ণতা যখন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, তখনই তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এমন ঘটনা হাতেগোনা কয়েকবার ঘটেছে। আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পল রাউন্ডি এবং মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যান্ডি হেজেলটনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বর্তমানের সব মডেল ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।

আরও পড়ুন  রংপুরের নতুন ডপলার রাডার উদ্বোধন, উত্তরাঞ্চলে পাওয়া যাবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা

মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, এই গ্রীষ্মে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ। ক্লাইমেট সেন্ট্রালের বিজ্ঞানী টম ডি লিবার্টো একে ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এল নিনোর প্রয়োজনীয় সব উপাদান বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দুর্যোগ দেখা দিতে পারে:

খরা ও তীব্র দাবদাহ: অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অ্যামাজনের বনাঞ্চল ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ভারি বৃষ্টি ও বন্যা: এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে।
হ্যারিকেন ও সামুদ্রিক দুর্যোগ: উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে বড় ধরনের হ্যারিকেন বা সামুদ্রিক ঝড়ের প্রকোপ বাড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্ট সাউলো জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের শীর্ষ পাঁচটির একটি, যা ২০২৪ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার অন্যতম কারণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এল নিনোর এই আগাম পূর্বাভাস সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মানবিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা কাটাতে অস্বাভাবিক বৃষ্টির প্রয়োজন হলেও তা আবার ধ্বংসাত্মক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোয়েল লিসনবি সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের চরম আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে প্রাণহানির ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে, তবে বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়াতে এখনই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা

আপডেট সময় ০১:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

আসন্ন গ্রীষ্মেই বিশ্বজুড়ে আছড়ে পড়তে পারে ‘এল নিনো’, যা গত ১৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। মার্কিন জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সাধারণ এল নিনো নয়, বরং ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে আগামী বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ খরা, বন্যা ও সামুদ্রিক ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাংশের উপরিভাগের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হলে তাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। তবে সমুদ্রের এই উষ্ণতা যখন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, তখনই তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এমন ঘটনা হাতেগোনা কয়েকবার ঘটেছে। আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পল রাউন্ডি এবং মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যান্ডি হেজেলটনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বর্তমানের সব মডেল ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।

আরও পড়ুন  কুয়াশায় ঢাকায় ব্যাহত বিমান চলাচল, ৮ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ডাইভার্ট

মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, এই গ্রীষ্মে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ। ক্লাইমেট সেন্ট্রালের বিজ্ঞানী টম ডি লিবার্টো একে ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এল নিনোর প্রয়োজনীয় সব উপাদান বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দুর্যোগ দেখা দিতে পারে:

খরা ও তীব্র দাবদাহ: অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অ্যামাজনের বনাঞ্চল ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ভারি বৃষ্টি ও বন্যা: এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে।
হ্যারিকেন ও সামুদ্রিক দুর্যোগ: উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে বড় ধরনের হ্যারিকেন বা সামুদ্রিক ঝড়ের প্রকোপ বাড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্ট সাউলো জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের শীর্ষ পাঁচটির একটি, যা ২০২৪ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার অন্যতম কারণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এল নিনোর এই আগাম পূর্বাভাস সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মানবিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা কাটাতে অস্বাভাবিক বৃষ্টির প্রয়োজন হলেও তা আবার ধ্বংসাত্মক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোয়েল লিসনবি সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের চরম আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে প্রাণহানির ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে, তবে বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়াতে এখনই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।