ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা সুপার এল নিনোর শঙ্কা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার আত্মীয়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কাশেম মিয়ার বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইওভারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পেজের এডমিন গ্রেফতার শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড মুসলিমদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 15

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বুধবার, ১৭ জুন রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান প্রতিরক্ষা বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তার মতে, বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশ বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যয় হয়। ফলে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে বরাদ্দ সীমিত থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃষি খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটের তুলনায় কৃষিতে বরাদ্দের হার দীর্ঘদিন ধরে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এছাড়া কৃষি ভর্তুকির একটি অংশ প্রকৃত কৃষকের কাছে না পৌঁছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে আয়সীমার সামান্য বৃদ্ধি সাধারণ করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে না। বরং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে অনেকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তার দাবি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, বর্তমান ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে এক বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। একইভাবে প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ড. জুবায়ের আহমেদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বুধবার, ১৭ জুন রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান প্রতিরক্ষা বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তার মতে, বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশ বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যয় হয়। ফলে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে বরাদ্দ সীমিত থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃষি খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটের তুলনায় কৃষিতে বরাদ্দের হার দীর্ঘদিন ধরে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এছাড়া কৃষি ভর্তুকির একটি অংশ প্রকৃত কৃষকের কাছে না পৌঁছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে আয়সীমার সামান্য বৃদ্ধি সাধারণ করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে না। বরং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে অনেকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তার দাবি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, বর্তমান ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে এক বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। একইভাবে প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ড. জুবায়ের আহমেদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।