সংবাদপত্রের ‘কালো দিবস’ আজ, বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা
- আপডেট সময় ০২:০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 14
দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে আলোচিত একটি দিন হিসেবে ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাজীবী মহল এ দিনটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন সরকার চারটি পত্রিকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রকাশের অনুমতি রেখে অন্য সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বহু সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী কর্মসংস্থান হারান এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয় বলে তারা দাবি করে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন ১৯৭৬ সাল থেকে দিনটিকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার, ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএফইউজে ও ডিইউজে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেবেন।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার এক যৌথ বিবৃতি দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার কয়েক বছর পর সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করা হয়। তাদের দাবি, এর ফলে হাজারো সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্র প্রকাশে বিধিনিষেধ শিথিল এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সংবাদপত্র প্রকাশনা ও তথ্যপ্রবাহ সম্প্রসারণে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
যৌথ বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়েও গণমাধ্যমের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও সীমাবদ্ধতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা।

























