ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ছাড়া ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় নয়: ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 102

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রয়োজন। এমন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ করা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার, ৭ জুন এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ইতিবাচক আচরণ করে এবং গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা ছাড়া জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হবে না।

আরও পড়ুন  ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় প্রস্তুত ইসরাইল

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ নিয়ে সহজ কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছে না ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তি সম্পন্ন হলেই কেবল এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জব্দ সম্পদের অন্তত একটি অংশ অবমুক্ত না হলে তারা কোনো নতুন চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয়। তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করে আসছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দফা সামরিক হামলার ঘটনার পর থেকে তেহরান আলোচনার বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষকের মত।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, সমঝোতা খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ সম্পদ অবমুক্তির প্রশ্নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উইসকনসিনে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হয় উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে, নয়তো ইরানকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান বর্তমানে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দ সম্পদ ছাড়ের দাবি করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্থের একটি অংশ অবমুক্ত করতে হবে এবং বাকি অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার মতে, জব্দ সম্পদ অবমুক্তির বিষয়টি পারস্পরিক আস্থার পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ আটকে রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব সম্পদ ধীরে ধীরে অবমুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো দাবি তিনি তুলছেন না। তবে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে বলে বিভিন্ন পক্ষের পর্যবেক্ষণ।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের জবাবে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, লেবাননের বর্তমান সংঘাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন হিজবুল্লাহকেই দায়ী মনে করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাতের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহত হওয়ার পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনি বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনির অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধবিরতি ছাড়া ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় নয়: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৫:১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রয়োজন। এমন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ করা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার, ৭ জুন এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ইতিবাচক আচরণ করে এবং গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা ছাড়া জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হবে না।

আরও পড়ুন  যুদ্ধ বন্ধ করতে পারলে ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনীত করা হবে: হিলারি ক্লিনটন

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ নিয়ে সহজ কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছে না ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তি সম্পন্ন হলেই কেবল এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জব্দ সম্পদের অন্তত একটি অংশ অবমুক্ত না হলে তারা কোনো নতুন চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয়। তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করে আসছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দফা সামরিক হামলার ঘটনার পর থেকে তেহরান আলোচনার বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষকের মত।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, সমঝোতা খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ সম্পদ অবমুক্তির প্রশ্নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উইসকনসিনে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হয় উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে, নয়তো ইরানকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান বর্তমানে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দ সম্পদ ছাড়ের দাবি করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্থের একটি অংশ অবমুক্ত করতে হবে এবং বাকি অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার মতে, জব্দ সম্পদ অবমুক্তির বিষয়টি পারস্পরিক আস্থার পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ আটকে রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব সম্পদ ধীরে ধীরে অবমুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো দাবি তিনি তুলছেন না। তবে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে বলে বিভিন্ন পক্ষের পর্যবেক্ষণ।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের জবাবে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, লেবাননের বর্তমান সংঘাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন হিজবুল্লাহকেই দায়ী মনে করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাতের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহত হওয়ার পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনি বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনির অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে।