জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু
- আপডেট সময় ০৫:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 16
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার, ৭ জুন বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনেই আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট অধিবেশন শুরুর সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের সূচনায় স্পিকার বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের কারণে এবারের অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে কীভাবে ব্যয় হবে, সেই নীতিগত ও আর্থিক দিকনির্দেশনা এই অধিবেশনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেন। মনোনীত সদস্যরা হলেন সেলিমা রহমান, ওসমান ফারুক, জয়নুল আবেদীন, মো. শাহজাহান এবং শাহজাহান চৌধুরী। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকাভুক্ত সদস্যদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কেউ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব গ্রহণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।
কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জমা দেওয়া নোটিশও নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর কার্যপ্রণালী বিধির ২১১(১) অনুযায়ী ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে গঠিত বিশেষ কমিটি’র প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন কমিটির সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বাজেট অধিবেশনের তাৎপর্য তুলে ধরে স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৮৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের সমন্বিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সংবিধানের ৮৮, ৯০, ৯১ ও ৯২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশন শুধু আর্থিক পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্র নয়, বরং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং বাজেট সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান নীতিগত দলিল।
স্পিকার সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক হলেও তা যেন শিষ্টাচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সংসদীয় রীতিনীতির আলোকে পরিচালিত হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অধিবেশনের মূল আকর্ষণ আগামী ১১ জুন উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। সম্ভাব্য এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আসন্ন বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার লক্ষ্যে গত ২৬ এপ্রিল সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপনকালে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নই কমিটির দায়িত্ব।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেয়। সেখানে জানানো হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর সঙ্গে বাজারের মনস্তাত্ত্বিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, দেশে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা না থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলেও অনিয়ম দেখা দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ছে।
পরবর্তীতে বিশেষ কমিটি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করে। সদস্যদের মতামত ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

























