কিউবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় ১১:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 17
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল ছাড়াও আরও চার ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দুই সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তবে মার্কিন ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৬৬ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সাল থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশটির সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকে কমিউনিস্ট শাসিত দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, এই নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় কিউবা একটি সুশাসিত ও কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক। তার এ বক্তব্যের মধ্যেই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি নিষেধাজ্ঞাকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের আরেকটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি বা চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে নেওয়া এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনবে না।
এর আগে গত মাসেও কিউবার তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী, কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও উত্থাপন করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি গোষ্ঠীর পরিচালিত বিমানের ওপর কিউবার যুদ্ধবিমান গুলি চালিয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





















