যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ হিজবুল্লাহর, বাড়ছে ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা
- আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 21
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘিরে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ চললেও হিজবুল্লাহ প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, চুক্তির শর্তগুলো লেবাননের স্বার্থবিরোধী এবং কার্যত আত্মসমর্পণের সমতুল্য।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হিজবুল্লাহ নেতাদের বক্তব্যের পর যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে ইসরায়েল ও লেবানন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নবায়নকৃত যুদ্ধবিরতি কাঠামোয় সম্মতির কথা জানায়। প্রস্তাবিত সমঝোতায় লেবাননের ভেতরে বিশেষ নিরাপত্তা অঞ্চল বা ‘পাইলট জোন’ গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ সদস্যদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করলে তবেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
তবে আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়া হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম এ প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন। তার দাবি, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করা, যা সংগঠনটির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহ, যা হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানেও চুক্তি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, চলমান হামলার মধ্যে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েল সীমান্ত ও লিতানি নদীর মধ্যবর্তী প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লেবাননের সেনাবাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পাইলট জোন’ গঠনে সহায়তা করবে। সেখানে কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
তবে এসব এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমারেখা কিংবা বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে সোমবার (১ জুন) একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ রাখলে ইসরায়েলও বৈরুতে বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে বিরত থাকবে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ২২ জুন পুনরায় বৈঠকে বসবেন বলে জানানো হয়েছে। সেখানে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সরকার হয়তো আশা করেছিল যে আলোচনার প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ পরোক্ষভাবে যুক্ত হবে। তবে সংগঠনটির সাম্প্রতিক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা নিজেদেরকে এখনো সংঘাত মোকাবিলার প্রধান শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান ও হামলা অব্যাহত থাকবে। একই দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।





















