ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে বড় বাঁধা মোজতবার জটিল ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা’
- আপডেট সময় ১০:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 80
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায় বা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেহরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান ও তাঁর বিশেষ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ রবিবার (২৪ মে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন কোনো একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি ইরান সরকারের অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে অত্যন্ত বিশ্বস্ত দূতদের একটি জটিল ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। মোজতবা খামেনি নিজে সরাসরি কোনো তথ্য আদান-প্রদান বা নির্দেশনা দেন না; বরং তাঁর পুরো যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি এই বিশেষ দূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কঠোর গোপনীয়তায় পরিচালিত হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই বিশেষ ও জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার জন্য ইরানের যে দলটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, খোদ সেই ইরানি আলোচকরাই তাঁদের নিজস্ব সরকারি কাঠামোর মধ্যে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যখনই কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়, ইরান তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দীর্ঘ সময় নেয়। এর মূল কারণ হচ্ছে সর্বোচ্চ নেতার এই বিস্তৃত দূত-নেটওয়ার্ক। মার্কিন প্রস্তাবটি জটিল এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তর পার হয়ে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং সেখান থেকে তাঁর চূড়ান্ত জবাব বা দিকনির্দেশনা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়াটিতে দীর্ঘ সময় অপচয় হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হলেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনই মার্কিন হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর স্ত্রী, নাতি ও পুত্রবধূ নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি নিজে গুরুতর আহত হন। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি একটি অত্যন্ত গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।




















