মেডিকেল টেন্ডার দুর্নীতিতে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 84
হাসপাতালগুলোর টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ঘিরে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, অবৈধ প্রভাব খাটানো কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ডা. নাসির ইসলাম শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
আহত চিকিৎসকের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু ডা. নাসিরের মাথায় আঘাত রয়েছে, তাই তাকে বর্তমানে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকি অপরাধীদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী বা অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে ক্যানসার হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের ওপরও হামলা হয়েছিল, আমরা সব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করেছি।”
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের দেওয়া হুমকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এসব হুমকি-ধমকিতে চিকিৎসকেরা মোটেও শঙ্কিত নন। তারা দেশের স্বার্থে এবং জনগণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। মেডিকেল সেক্টরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।”
দেশের বর্তমান হাম ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, শনিবারও সারা দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজারের নিচে ছিল এবং হামে মৃত্যুর হার বর্তমানে শূন্য (সন্দেহজনক মৃত্যু দুটি)।
বিগত দিনের টিকাদান কর্মসূচির গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূর্বে দেশে হামের ভ্যাকসিন এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের তীব্র সংকট ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফল ও দ্রুত কূটনৈতিক সফলতায় আমরা প্রয়োজনীয় টিকার ব্যবস্থা করেছি।
বর্তমানে আমাদের কাছে সব ধরনের ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। খুব দ্রুতই হাম ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”























