ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গণরায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না: ডা. শফিকুর রহমান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 76

ছবি: সংগৃহীত

গণরায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে বর্তমান সরকার, প্রতিবেশী ভারত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি একগুচ্ছ কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিভাগীয় এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজশাহী ও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা ময়দানে জড়ো হন, যা একপর্যায়ে উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন  আমি কে আমার মাকে সমাজের খেদমত থেকে বঞ্চিত রাখার? জামায়াত আমিরের

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের আগে যারা সংবিধান সংস্কার, সুশাসন ও মেরামত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যে তরুণরা বুক চিতিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, বর্তমান সরকার আজ সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছে।
জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে অতীতে যেভাবে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে, এই সরকারের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।” তিনি আরও বলেন, ৫২ জেলায় দলীয় কোটায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এবং স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত লোক বসিয়ে নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “দেশে এখন সর্বত্র দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মহাউৎসব চলছে। মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবাই এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, যে কারণে এটি বন্ধ হচ্ছে না।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে ‘দলকানা’ ও অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, সরকারকেও দিতে হবে।”

নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্বের দিকে কেউ ‘লাল চোখ’ দেখালে এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
এটা তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বাংলাদেশ; আমাদের শান্তিতে আঘাত করলে কারও শান্তি থাকবে না।” তিনি সরকারকে লোকদেখানো প্রকল্প বাদ দিয়ে দ্রুত পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার—এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অশান্তি বরদাশত করা হবে না। পরিশেষে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “সংসদে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু সেখানে যদি আমাদের কথা বলতে না দেওয়া হয়, তবে রাজপথেই ‘জনগণের পার্লামেন্ট’ গড়ে তোলা হবে। জান দেব, কিন্তু দেশের মান দেব না।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণরায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০৮:১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

গণরায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে বর্তমান সরকার, প্রতিবেশী ভারত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি একগুচ্ছ কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিভাগীয় এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজশাহী ও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা ময়দানে জড়ো হন, যা একপর্যায়ে উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন  জামায়াত আমীরের হুঁশিয়ারি: আজহারুল ইসলামের মুক্তি না দিলে তিন কোটি মানুষকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি নিন!”

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের আগে যারা সংবিধান সংস্কার, সুশাসন ও মেরামত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যে তরুণরা বুক চিতিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, বর্তমান সরকার আজ সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছে।
জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে অতীতে যেভাবে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে, এই সরকারের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।” তিনি আরও বলেন, ৫২ জেলায় দলীয় কোটায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এবং স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত লোক বসিয়ে নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “দেশে এখন সর্বত্র দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মহাউৎসব চলছে। মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবাই এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, যে কারণে এটি বন্ধ হচ্ছে না।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে ‘দলকানা’ ও অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, সরকারকেও দিতে হবে।”

নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্বের দিকে কেউ ‘লাল চোখ’ দেখালে এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
এটা তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বাংলাদেশ; আমাদের শান্তিতে আঘাত করলে কারও শান্তি থাকবে না।” তিনি সরকারকে লোকদেখানো প্রকল্প বাদ দিয়ে দ্রুত পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার—এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অশান্তি বরদাশত করা হবে না। পরিশেষে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “সংসদে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু সেখানে যদি আমাদের কথা বলতে না দেওয়া হয়, তবে রাজপথেই ‘জনগণের পার্লামেন্ট’ গড়ে তোলা হবে। জান দেব, কিন্তু দেশের মান দেব না।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।