ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের জন্য ইতিবাচক: সিআইআই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 100

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে নয়া দিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই কৌশলটি কেবল দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  "ভারতে পাচারের সময় ৫টি স্বর্ণের বারসহ আটক পাচারকারী"

বৈঠকে পঙ্কজ ট্যান্ডন উল্লেখ করেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা ভারতের উন্নয়নের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো অন্তর্মুখী নীতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিআইআই নেতারা জানান, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়ন বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা বলেন, এটি কেবল পণ্য বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সেবা খাত, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে বলেও সভায় জানানো হয়।

খাতভিত্তিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পঙ্কজ ট্যান্ডন বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নকশাগত অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে।

ভারতের আর্থিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সিআইআই-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক মনীষ মোহনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের জন্য ইতিবাচক: সিআইআই

আপডেট সময় ০১:০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে নয়া দিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই কৌশলটি কেবল দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত

বৈঠকে পঙ্কজ ট্যান্ডন উল্লেখ করেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা ভারতের উন্নয়নের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো অন্তর্মুখী নীতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিআইআই নেতারা জানান, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়ন বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা বলেন, এটি কেবল পণ্য বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সেবা খাত, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে বলেও সভায় জানানো হয়।

খাতভিত্তিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পঙ্কজ ট্যান্ডন বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নকশাগত অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে।

ভারতের আর্থিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সিআইআই-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক মনীষ মোহনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।