আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক: ৩ পর্যটকের রহস্যজনক মৃত্যু
- আপডেট সময় ১০:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 56
আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজে তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মৃতদের শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের শক্তিশালী সন্দেহ রয়েছে এবং ল্যাব পরীক্ষায় অন্তত একজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই জাহাজটিতে আরও পাঁচজন যাত্রী সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ নাগরিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তাকে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজটি গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং ৪ মে কেপ ভার্দেতে পৌঁছানোর কথা ছিল। যাত্রাপথে এটি অ্যান্টার্কটিকা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জসহ দক্ষিণ আটলান্টিকের বেশ কিছু দুর্গম অঞ্চলে অবস্থান করেছিল।
জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস’ জানিয়েছে, তারা জাহাজে একটি অত্যন্ত গুরুতর চিকিৎসা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে দুইজন ডাচ নাগরিক রয়েছেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ভাইরাসের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রায় ১৫০ জন পর্যটক নিয়ে ভ্রমণরত এই জাহাজটির বাকি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ল্যাবরেটরিতে অন্তত ছয়জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জাহাজ থেকে তীরে নামার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে ডাচ সরকার তাদের দেশের নাগরিক ও মৃতদেহের অবশিষ্টাংশ দেশে ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা কৃন্তক প্রাণীর মলমূত্রের সংস্পর্শে ছড়ায়, যা মানুষের শ্বাসতন্ত্রে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিরল, তবে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।






















