বজ্রপাত থেকে কৃষক বাঁচাতে এসএসটিএফ-এর প্রচারণা
- আপডেট সময় ০৪:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 96
সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের কৃষকদের জীবন রক্ষায় বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।
মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকায় ধান কাটায় নিয়োজিত শতাধিক কৃষকের মাঝে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার কৌশল ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার (২ মে) সংগঠনের গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলীমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে; যার মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। মৃতদের সিংহভাগই পেশায় কৃষক এবং তারা মাঠে কর্মরত অবস্থায় এই দুর্যোগের শিকার হয়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে আড়িয়াল বিলের বিস্তীর্ণ মাঠে কর্মরত কৃষকদের সুরক্ষায় সংগঠনটি তিনটি প্রধান নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে:
১. খোলা আকাশে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘের সঞ্চার দেখলেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।
২. বৃষ্টির সময় কোনোভাবেই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
৩. মাঠে কাজ করার সময় অবশ্যই পায়ে জুতা পরিধান করতে হবে।
এসএসটিএফ-এর প্রতিনিধি দল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে কৃষকদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে এই জীবন রক্ষাকারী কৌশলগুলো হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন।
সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা অনেক সময় প্রাণহানির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত কৃষকদের মনোবল বৃদ্ধি ও ক্লান্তি দূর করতে এ সময় তাদের মাঝে কোমল পানীয়, শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
এসএসটিএফ-এর সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি মার্চ থেকে জুন—এই চার মাস নিয়মিত বজ্রপাত সচেতনতা কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।”
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ জানান, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে বড় গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা। এতে খোলা মাঠে মানুষের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করেন গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং পাকা স্থাপনার নিচে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।”
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলীম এবং যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

























