কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুন
- আপডেট সময় ০৩:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী সায়েদ আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন। এছাড়া দণ্ডিত আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা নিহতের সন্তানকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১০ সালে সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কামরাঙ্গীরচরের বাসায় রেহানাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় স্বামী সায়েদ ও তাঁর ভাই শফি আহমেদ ঘটনাটিকে ‘স্ট্রোক’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তড়িঘড়ি করে আজিমপুর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করেন।
নিহত রেহানার মা রেজিয়া বেগম কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৯ অক্টোবর তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। সিআইডি পুলিশের অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, রেহানাকে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক লুৎফর রহমান শুধুমাত্র সায়েদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সায়েদ আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা জারির পর তাঁকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রেহানার ভাই শফি আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। তাঁরা দ্রুত এই সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

























