ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উজান থেকে নামছে ঢল; ৩ জেলায় বন্যার শঙ্কা গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়নি: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনা; আহত পলক জাপানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বড় লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের গুলশানে ভারতীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যু বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ভুয়া সার্টিফিকেটধারী ২৬২ শিক্ষক শনাক্ত

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রূপকার রঘু রাইয়ের প্রয়াণ: শোকাতুর দুই দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

ছবি সংগৃহীত

 

নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণকারী বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই আলোকচিত্রীর প্রয়াণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, রঘু রাই গত দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সাথে লড়াই করছিলেন। তাঁর ছেলে ও আলোকচিত্রী নীতিন রাই জানিয়েছেন, ক্যানসার শুরুতে প্রোস্টেটে শনাক্ত হলেও পরবর্তীতে তা পাকস্থলী এবং সম্প্রতি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বিকেল ৪টায় দিল্লিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা: ক্যারিবীয় সাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাংয়ে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬৫ সালে ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ইন্ডিয়া টুডে সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রঘু রাইকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অমূল্য রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা দুর্গত মানুষের যন্ত্রণার ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ সমর এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়। তাঁর তোলা সেই আলোকচিত্রগুলো বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি শরণার্থীদের আর্তনাদ বিশ্বদরবারে সফলভাবে তুলে ধরার জন্যই তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

রঘু রাই শুধু যুদ্ধের ছবিই নয়, বরং মাদার তেরেসা, ইন্দিরা গান্ধী, সত্যজিৎ রায় এবং দালাই লামার মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের বিরল সব মুহূর্তও ধারণ করেছেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো টাইম, লাইফ এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো স্বনামধন্য সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেছেন এই গুণী আলোকচিত্রী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রূপকার রঘু রাইয়ের প্রয়াণ: শোকাতুর দুই দেশ

আপডেট সময় ১২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণকারী বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই আলোকচিত্রীর প্রয়াণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, রঘু রাই গত দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সাথে লড়াই করছিলেন। তাঁর ছেলে ও আলোকচিত্রী নীতিন রাই জানিয়েছেন, ক্যানসার শুরুতে প্রোস্টেটে শনাক্ত হলেও পরবর্তীতে তা পাকস্থলী এবং সম্প্রতি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বিকেল ৪টায় দিল্লিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলে ইতিহাস গড়া বিচার

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাংয়ে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬৫ সালে ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ইন্ডিয়া টুডে সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রঘু রাইকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অমূল্য রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা দুর্গত মানুষের যন্ত্রণার ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ সমর এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়। তাঁর তোলা সেই আলোকচিত্রগুলো বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি শরণার্থীদের আর্তনাদ বিশ্বদরবারে সফলভাবে তুলে ধরার জন্যই তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

রঘু রাই শুধু যুদ্ধের ছবিই নয়, বরং মাদার তেরেসা, ইন্দিরা গান্ধী, সত্যজিৎ রায় এবং দালাই লামার মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের বিরল সব মুহূর্তও ধারণ করেছেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো টাইম, লাইফ এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো স্বনামধন্য সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেছেন এই গুণী আলোকচিত্রী।