ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রূপকার রঘু রাইয়ের প্রয়াণ: শোকাতুর দুই দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 104

ছবি সংগৃহীত

 

নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণকারী বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই আলোকচিত্রীর প্রয়াণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, রঘু রাই গত দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সাথে লড়াই করছিলেন। তাঁর ছেলে ও আলোকচিত্রী নীতিন রাই জানিয়েছেন, ক্যানসার শুরুতে প্রোস্টেটে শনাক্ত হলেও পরবর্তীতে তা পাকস্থলী এবং সম্প্রতি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বিকেল ৪টায় দিল্লিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মুকুল দেব আর নেই

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাংয়ে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬৫ সালে ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ইন্ডিয়া টুডে সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রঘু রাইকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অমূল্য রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা দুর্গত মানুষের যন্ত্রণার ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ সমর এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়। তাঁর তোলা সেই আলোকচিত্রগুলো বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি শরণার্থীদের আর্তনাদ বিশ্বদরবারে সফলভাবে তুলে ধরার জন্যই তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

রঘু রাই শুধু যুদ্ধের ছবিই নয়, বরং মাদার তেরেসা, ইন্দিরা গান্ধী, সত্যজিৎ রায় এবং দালাই লামার মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের বিরল সব মুহূর্তও ধারণ করেছেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো টাইম, লাইফ এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো স্বনামধন্য সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেছেন এই গুণী আলোকচিত্রী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রূপকার রঘু রাইয়ের প্রয়াণ: শোকাতুর দুই দেশ

আপডেট সময় ১২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণকারী বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই আলোকচিত্রীর প্রয়াণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, রঘু রাই গত দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সাথে লড়াই করছিলেন। তাঁর ছেলে ও আলোকচিত্রী নীতিন রাই জানিয়েছেন, ক্যানসার শুরুতে প্রোস্টেটে শনাক্ত হলেও পরবর্তীতে তা পাকস্থলী এবং সম্প্রতি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বিকেল ৪টায় দিল্লিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইতিহাস গড়ে গর্বিত সালাহ

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাংয়ে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬৫ সালে ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ইন্ডিয়া টুডে সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রঘু রাইকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অমূল্য রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা দুর্গত মানুষের যন্ত্রণার ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ সমর এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়। তাঁর তোলা সেই আলোকচিত্রগুলো বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি শরণার্থীদের আর্তনাদ বিশ্বদরবারে সফলভাবে তুলে ধরার জন্যই তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

রঘু রাই শুধু যুদ্ধের ছবিই নয়, বরং মাদার তেরেসা, ইন্দিরা গান্ধী, সত্যজিৎ রায় এবং দালাই লামার মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের বিরল সব মুহূর্তও ধারণ করেছেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো টাইম, লাইফ এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো স্বনামধন্য সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেছেন এই গুণী আলোকচিত্রী।