ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ; আহত অন্তত ৮ দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৭৬ টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম; বুকসমান পানিতে স্থবির বন্দরনগরী মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ২ বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ নিহত ৩ উজান থেকে নামছে ঢল; ৩ জেলায় বন্যার শঙ্কা গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়নি: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনা; আহত পলক জাপানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বড় লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 13

ছবি সংগৃহীত

 

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার ছাড়া কোনো দেশ প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী পদে শায়া মোহসেন জিনদানি, পদত্যাগ করছেন ব্রেইক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই যাত্রাকে সফল করতে হলে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কোনো মানুষ যাতে অর্থের অভাবে ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ বা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের চার দেয়ালের ভেতরের কোনো প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই সার্থক হয় যখন আইন মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে কাজ করে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান সংশোধন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার অস্বীকার করা’। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আদালতের ওপর চাপ কমছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে আইনি সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। এছাড়া লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনকে আরও কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার সময় তিনি এমন অনেককে দেখেছেন, যারা শুধু অর্থাভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অর্থের অভাবে বিচারবঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ন্যায়বিচারই হলো রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির মূল ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় বক্তব্য রাখেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:১৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার ছাড়া কোনো দেশ প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প‌ক্ষে বিএন‌পি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই যাত্রাকে সফল করতে হলে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কোনো মানুষ যাতে অর্থের অভাবে ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ বা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের চার দেয়ালের ভেতরের কোনো প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই সার্থক হয় যখন আইন মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে কাজ করে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান সংশোধন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার অস্বীকার করা’। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আদালতের ওপর চাপ কমছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে আইনি সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। এছাড়া লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনকে আরও কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার সময় তিনি এমন অনেককে দেখেছেন, যারা শুধু অর্থাভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অর্থের অভাবে বিচারবঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ন্যায়বিচারই হলো রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির মূল ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় বক্তব্য রাখেন।