নীল আলোর চেয়েও ভয়ঙ্কর রাতের ঘুম কাড়ছে স্মার্টফোনের ‘কনটেন্ট’
- আপডেট সময় ১১:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 17
ডিসপ্লের আলো নয়, ডিভাইসের ‘কনটেন্টই’ আপনাকে জাগিয়ে রাখছে; বলছে গবেষণা।
স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের নীল আলো (Blue Light) এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘুমের প্রধান শত্রু হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি যতটা সরলভাবে প্রচার করা হয়, বাস্তবে তা নয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমি জেইৎজার এবং অন্যান্য গবেষকদের মতে, পর্দার নীল আলোর চেয়ে দিনের বেলায় আলোর স্বল্পতা এবং আমাদের আধুনিক অভ্যাসই ঘুমের বেশি ক্ষতি করছে।
গবেষণার নতুন তথ্য: ২০১৪ সালের একটি ছোট গবেষণার ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছিল যে, আইপ্যাডের নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। তবে আধুনিক বিশ্লেষণ বলছে, ১১টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে স্ক্রিনের আলো খুব খারাপ অবস্থাতেও ঘুম বিলম্বিত করে গড়ে মাত্র ৯ মিনিট। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৪ ঘণ্টায় ডিজিটাল ডিভাইস থেকে যে পরিমাণ নীল আলো চোখে পড়ে, তা বাইরে সূর্যালোকে মাত্র ১ মিনিট থাকার চেয়েও কম।
আসল সমস্যা কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সারাদিন মোট কতটা আলো পাওয়া যাচ্ছে এবং দিন ও রাতের আলোর পার্থক্য।
* আলোর স্বল্পতা: দিনের বেলা ঘরে বসে কাজ করলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় না। সকালে অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটলে বা উজ্জ্বল আলোতে থাকলে শরীরের ‘জৈবিক ঘড়ি’ স্থিতিশীল থাকে।
* বিষয়বস্তু বা কন্টেন্ট: জেইৎজার বলেন, স্মার্টফোন থেকে নির্গত আলোর চেয়েও বড় সমস্যা হলো আপনি সেখানে কী দেখছেন। উত্তেজনাকর খবর, ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া ফিড ব্রেনকে সজাগ রাখে, যা ঘুমের প্রস্তুতির মানসিক সংকেতকে নষ্ট করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
* সকালে আলো, রাতে আঁধার: সকালে বেশি আলো এবং সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে ঘরের আলো কমিয়ে দিন। এই পার্থক্য শরীরকে সময় বুঝতে সাহায্য করে।
* বাইরে যাওয়ার অভ্যাস: সম্ভব হলে সকালে অন্তত আধঘণ্টা রোদে কাটান। দিনের বেলা যত বেশি আলো পাবেন, সন্ধ্যার হালকা আলো আপনার ঘুমের ওপর তত কম প্রভাব ফেলবে।
* ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমের আগে ডিভাইসের আলোর চেয়ে ডিভাইসটি দূরে রাখা বা রিল্যাক্সিং কিছু দেখা বেশি কার্যকর।
নীল আলো নিরোধক চশমা বা পর্দার ফিল্টার কিছুটা কাজ করতে পারে, তবে তা কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা এবং দিন ও রাতের আলোর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই উন্নত ঘুমের একমাত্র পথ।

























