ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

দায়বদ্ধতাহীন ভালোবাসার নতুন নাম ‘ন্যানোশিপ’, বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন সতর্কবার্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 122

ছবি: সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিবর্তিত হচ্ছে সম্পর্কের সংজ্ঞাও। মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের হাত ধরে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বা ‘রিলেশনশিপ’-এর গণ্ডি পেরিয়ে এক সময় আলোচনায় এসেছিল ‘সিচুয়েশনশিপ’। তবে ডিজিটাল যুগের দ্রুতগতির জীবনে সেই ধারণাও এখন পুরনো হতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের সম্পর্কের অভিধানে এখনকার সবথেকে আলোচিত নাম ‘ন্যানোশিপ’।

ন্যানোশিপ আসলে কী: নামের মধ্যেই এর স্থায়িত্বের ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। ‘ন্যানো’ অর্থাৎ অতি ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত। ভালোবাসার আকাশে এক মুহূর্তের রোমাঞ্চকর ঝলকই হলো ন্যানোশিপ। এটি হতে পারে কোনো কফিশপে কাটানো কয়েক ঘণ্টা কিংবা কোনো ছুটিতে কাটানো মাত্র দু-তিনটি দিন। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই গড়ে ওঠে এক ধরনের তীব্র রোমান্টিক সংযোগ। তবে এর বিশেষত্ব হলো—এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই কোনো প্রতিশ্রুতির বোঝা বা সম্পর্কের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা। এক টুকরো ভালো লাগা এসে হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং মুহূর্ত শেষেই তা মিলিয়ে যাবে—এমনই এর প্রকৃতি।

কেন বাড়ছে এই প্রবণতা: সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানের অতি ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি তীব্র আকর্ষণ এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতার ভয় থেকে অনেকেই এখন সম্পর্ককে ‘কমিটমেন্ট’ হিসেবে না দেখে কেবল একটি ‘এক্সপেরিয়েন্স’ বা অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখতে পছন্দ করছেন। ডেটিং অ্যাপের সহজলভ্যতা এই ধারাকে আরও সহজ করে দিয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, যখন মুহূর্তটুকু উপভোগ করাই যথেষ্ট, তখন সম্পর্কের ভার নেওয়ার প্রয়োজন কী?

আরও পড়ুন  দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ গ্রামে লুৎফুজ্জামান বাবর, ভালোবাসায় সিক্ত জনতা

সিচুয়েশনশিপ বনাম ন্যানোশিপ: অনেকেই এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সিচুয়েশনশিপ কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় চলতে পারে এবং এতে ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, ন্যানোশিপ স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন। এটি শুরুই হয় ‘এরপর আর কিছু নেই’—এমন অলিখিত শর্তে।

ঝুঁকি ও সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞরা এই ট্রেন্ডকে পুরোপুরি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, দায়বদ্ধতা থেকে সাময়িক মুক্তি দিলেও এটি মানুষের আবেগকে ধীরে ধীরে ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। বারবার ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের আবর্তে ঢোকা ও বেরিয়ে আসা একজন মানুষের গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এতে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনাগ্রহ বা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে অনেকের কাছে এটি এক ধরনের ‘মানসিক ডিটক্স’। জীবনের একঘেয়েমি বা একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে কোনো চাপ ছাড়াই নিজের মতো সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে তারা ন্যানোশিপকে বেছে নিচ্ছেন। ন্যানোশিপ মুহূর্তকে উপভোগ করতে শেখালেও, এটি একই সাথে মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের আবেগ আসলে এত সহজে ‘ক্ষুদ্র’ বা ‘ন্যানো’ হয়ে যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

দায়বদ্ধতাহীন ভালোবাসার নতুন নাম ‘ন্যানোশিপ’, বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৫:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিবর্তিত হচ্ছে সম্পর্কের সংজ্ঞাও। মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের হাত ধরে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বা ‘রিলেশনশিপ’-এর গণ্ডি পেরিয়ে এক সময় আলোচনায় এসেছিল ‘সিচুয়েশনশিপ’। তবে ডিজিটাল যুগের দ্রুতগতির জীবনে সেই ধারণাও এখন পুরনো হতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের সম্পর্কের অভিধানে এখনকার সবথেকে আলোচিত নাম ‘ন্যানোশিপ’।

ন্যানোশিপ আসলে কী: নামের মধ্যেই এর স্থায়িত্বের ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। ‘ন্যানো’ অর্থাৎ অতি ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত। ভালোবাসার আকাশে এক মুহূর্তের রোমাঞ্চকর ঝলকই হলো ন্যানোশিপ। এটি হতে পারে কোনো কফিশপে কাটানো কয়েক ঘণ্টা কিংবা কোনো ছুটিতে কাটানো মাত্র দু-তিনটি দিন। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই গড়ে ওঠে এক ধরনের তীব্র রোমান্টিক সংযোগ। তবে এর বিশেষত্ব হলো—এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই কোনো প্রতিশ্রুতির বোঝা বা সম্পর্কের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা। এক টুকরো ভালো লাগা এসে হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং মুহূর্ত শেষেই তা মিলিয়ে যাবে—এমনই এর প্রকৃতি।

কেন বাড়ছে এই প্রবণতা: সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানের অতি ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি তীব্র আকর্ষণ এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতার ভয় থেকে অনেকেই এখন সম্পর্ককে ‘কমিটমেন্ট’ হিসেবে না দেখে কেবল একটি ‘এক্সপেরিয়েন্স’ বা অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখতে পছন্দ করছেন। ডেটিং অ্যাপের সহজলভ্যতা এই ধারাকে আরও সহজ করে দিয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, যখন মুহূর্তটুকু উপভোগ করাই যথেষ্ট, তখন সম্পর্কের ভার নেওয়ার প্রয়োজন কী?

আরও পড়ুন  বিশ্ব মা দিবস আজ, মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ

সিচুয়েশনশিপ বনাম ন্যানোশিপ: অনেকেই এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সিচুয়েশনশিপ কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় চলতে পারে এবং এতে ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, ন্যানোশিপ স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন। এটি শুরুই হয় ‘এরপর আর কিছু নেই’—এমন অলিখিত শর্তে।

ঝুঁকি ও সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞরা এই ট্রেন্ডকে পুরোপুরি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, দায়বদ্ধতা থেকে সাময়িক মুক্তি দিলেও এটি মানুষের আবেগকে ধীরে ধীরে ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। বারবার ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের আবর্তে ঢোকা ও বেরিয়ে আসা একজন মানুষের গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এতে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনাগ্রহ বা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে অনেকের কাছে এটি এক ধরনের ‘মানসিক ডিটক্স’। জীবনের একঘেয়েমি বা একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে কোনো চাপ ছাড়াই নিজের মতো সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে তারা ন্যানোশিপকে বেছে নিচ্ছেন। ন্যানোশিপ মুহূর্তকে উপভোগ করতে শেখালেও, এটি একই সাথে মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের আবেগ আসলে এত সহজে ‘ক্ষুদ্র’ বা ‘ন্যানো’ হয়ে যায় না।