ফ্রিজের মাংস নিরাপদ কি না বুঝবেন যে তিন লক্ষণে
- আপডেট সময় ০৫:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত কিংবা সুপারশপ থেকে কেনা মুরগির মাংস রান্নার আগে সেটি খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। রান্নার আগে মাংসের রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের মতো সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য যাচাই করে এর গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার। মাংস নিরাপদ মনে না হলে তা গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাটকা মুরগির মাংস চেনার প্রধান উপায় হলো এর হালকা গোলাপি আভা। মাংস যদি দীর্ঘদিনের পুরোনো বা বাসি হয়, তবে তা মলিন দেখায়। যদি মাংসে ধূসর, হলুদ বা সবুজ রঙের ছাপ দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মেছে এবং এমন মাংস দ্রুত বর্জন করা উচিত।
ঘ্রাণের মাধ্যমেও মাংসের সতেজতা যাচাই করা সম্ভব। টাটকা কাঁচা মাংসে সাধারণত তীব্র কোনো ঘ্রাণ থাকে না। তবে মাংস নষ্ট হতে শুরু করলে তাতে দুর্গন্ধ বা টক জাতীয় অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া স্পর্শের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে; যদি মাংস অতিরিক্ত নরম, পিচ্ছিল বা আঠালো হয়ে যায় এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে মাংসের অংশটি দেবে থাকে, তবে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হিসেবে গণ্য হবে।
মাংস সংরক্ষণের বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ফ্রিজে রাখার সময় অবশ্যই এয়ারটাইট বক্স বা জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে কাঁচা মাংসের রস অন্য কোনো খাবারে ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া বাজার থেকে মাংস পরিবহনের সময়ও আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করা এবং ব্যাগ বা কার্টের নিচের অংশে রাখা নিরাপদ।
কাঁচা মাংস প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকরা। মাংস ধোয়ার সময় পানি যেন চারদিকে ছিটে না যায় এবং ব্যবহারের পর ছুরি, বঁটি বা কাটিং বোর্ড গরম পানি ও সাবান দিয়ে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাঁচা মাংস স্পর্শ করার আগে ও পরে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং মাংস সব সময় ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

























