ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিটিআরসি’র জরুরি বৈঠক আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীতর

বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের মোবাইল ফোন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার উপায় খুঁজতে মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন এবং টাওয়ারকো অপারেটরদের অংশগ্রহণে এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মোবাইল টাওয়ার ও ডেটাসেন্টারগুলো সচল রাখতে বর্তমানে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বেড়েছে। তবে একই সময়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের ফলে জেনারেটর চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অপারেটররা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় দেশব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা অচল হয়ে যেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে টাওয়ার কোম্পানিগুলো টেলিকম অবকাঠামোকে ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধ বন্ধে পু‌তি‌নের স‌ঙ্গে বৈঠক কর‌তে তুরস্ক যা‌চ্ছেন জে‌লেন‌স্কি

বিটিআরসি জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট ও সার্ভারগুলো সচল রাখতে তারা ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। গত ১২ ও ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া টাওয়ার সাইটগুলোতে জ্বালানি পরিবহন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে গত ২০ এপ্রিল পুনরায় চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পিজিসিবি’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিটিআরসি’র আরেকটি নীতি-নির্ধারণী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। বিটিআরসি’র বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অপরিহার্য। লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ডিজিটাল সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএ) জানিয়েছে, বর্তমানে সারাদেশে ৪৫ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে এসব অবকাঠামো অচল হয়ে পড়লে কোটি কোটি গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বেন। বিটিএ’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সুনীল আইজ্যাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এই খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় একে বিশেষ ক্যাটাগরির সেবা হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

লোডশেডিংয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিটিআরসি’র জরুরি বৈঠক আজ

আপডেট সময় ১০:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের মোবাইল ফোন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার উপায় খুঁজতে মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন এবং টাওয়ারকো অপারেটরদের অংশগ্রহণে এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মোবাইল টাওয়ার ও ডেটাসেন্টারগুলো সচল রাখতে বর্তমানে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বেড়েছে। তবে একই সময়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের ফলে জেনারেটর চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অপারেটররা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় দেশব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা অচল হয়ে যেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে টাওয়ার কোম্পানিগুলো টেলিকম অবকাঠামোকে ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  রিয়াদে আরব নেতাদের বৈঠক: গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নতুন কৌশল

বিটিআরসি জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট ও সার্ভারগুলো সচল রাখতে তারা ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। গত ১২ ও ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া টাওয়ার সাইটগুলোতে জ্বালানি পরিবহন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে গত ২০ এপ্রিল পুনরায় চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পিজিসিবি’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিটিআরসি’র আরেকটি নীতি-নির্ধারণী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। বিটিআরসি’র বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অপরিহার্য। লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ডিজিটাল সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএ) জানিয়েছে, বর্তমানে সারাদেশে ৪৫ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে এসব অবকাঠামো অচল হয়ে পড়লে কোটি কোটি গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বেন। বিটিএ’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সুনীল আইজ্যাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এই খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় একে বিশেষ ক্যাটাগরির সেবা হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।