ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির সংরক্ষিত আসনে আঃ লীগ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 114

ছবি সংগৃহীত

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সুবর্ণা ঠাকুর। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। ওড়াকান্দির ঐতিহ্যবাহী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের এই সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের এমন প্রচেষ্টায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের সক্রিয় এই আওয়ামী লীগ নেত্রী হঠাৎ করে আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নামায় দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে এই ঘটনা চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি'র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতার অভিযোগ, যারা বছরের পর বছর দলের জন্য জেল-জুলুম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবমূল্যায়ন করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে সুযোগ দেওয়া দলের জন্য আত্মঘাতী হবে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, সংসদীয় আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আদর্শিক নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরাসরি অন্য দলের পদধারী কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা তৃণমূলের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ থাকা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ব্যক্তিগত ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনালাপ এড়িয়ে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ‘সুবিধাবাদী’ তৎপরতা রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্য দলের পদধারী কাউকে সরাসরি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের প্রতি একনিষ্ঠ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির সংরক্ষিত আসনে আঃ লীগ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

আপডেট সময় ১১:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সুবর্ণা ঠাকুর। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। ওড়াকান্দির ঐতিহ্যবাহী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের এই সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের এমন প্রচেষ্টায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের সক্রিয় এই আওয়ামী লীগ নেত্রী হঠাৎ করে আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নামায় দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে এই ঘটনা চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতারা

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতার অভিযোগ, যারা বছরের পর বছর দলের জন্য জেল-জুলুম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবমূল্যায়ন করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে সুযোগ দেওয়া দলের জন্য আত্মঘাতী হবে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, সংসদীয় আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আদর্শিক নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরাসরি অন্য দলের পদধারী কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা তৃণমূলের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ থাকা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ব্যক্তিগত ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনালাপ এড়িয়ে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ‘সুবিধাবাদী’ তৎপরতা রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্য দলের পদধারী কাউকে সরাসরি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের প্রতি একনিষ্ঠ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।