ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

জনরোষের মুখে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 74

ছবি সংগৃহীত

 

তীব্র জনরোষ ও কয়লা আমদানিতে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালাও স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষের জেরেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই মন্ত্রী জয়াকোডি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। লঙ্কান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, ক্রয়প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর সরাসরি কোনো দুর্নীতি না থাকলেও নৈতিক কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

আরও পড়ুন  কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি, না মানলে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের হুঁশিয়ারি

উল্লেখ্য, কুমারা জয়াকোডি বর্তমান মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য যিনি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা পাস হয়নি। তবে সম্প্রতি দেশটির অন্যতম প্রধান ‘লাকভিজয়া’ বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েক ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত হওয়া সব কয়লা আমদানির পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রীলঙ্কার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে লাকভিজয়া কেন্দ্রটি। সেখানে বছরে গড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। নিম্নমানের কয়লার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা ও মন্ত্রীর পদত্যাগ শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জনরোষের মুখে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

তীব্র জনরোষ ও কয়লা আমদানিতে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালাও স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষের জেরেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই মন্ত্রী জয়াকোডি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। লঙ্কান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, ক্রয়প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর সরাসরি কোনো দুর্নীতি না থাকলেও নৈতিক কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

আরও পড়ুন  পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

উল্লেখ্য, কুমারা জয়াকোডি বর্তমান মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য যিনি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা পাস হয়নি। তবে সম্প্রতি দেশটির অন্যতম প্রধান ‘লাকভিজয়া’ বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েক ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত হওয়া সব কয়লা আমদানির পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রীলঙ্কার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে লাকভিজয়া কেন্দ্রটি। সেখানে বছরে গড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। নিম্নমানের কয়লার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা ও মন্ত্রীর পদত্যাগ শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।