পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে ১০ হাজার ব্যাংক কর্মী
- আপডেট সময় ১২:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 32
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের ইসলামি ধারার ছয়টি ব্যাংক থেকে অব্যাহতি পাওয়া কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ছয়টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। আন্দোলনকারীরা গত রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছে আজ সকাল থেকে এই বিক্ষোভে যোগ দেন।
কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারীরা বর্তমানে দায়িত্বরত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিচার এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে তাদের স্বপদে বহাল করা, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে পেশাজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনি গ্যারান্টির দাবি জানান।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে কিংবা যারা কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছিলেন, কেবল তাদেরই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে।
উল্লেখ্য, আলোচিত এই ছয়টি ব্যাংক আগে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৫ আগস্টের পর গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে সংকটে থাকা চারটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং বাকি দুটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।


























