ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

এসএসসি পরীক্ষা থেকে গায়েব ৪ লাখ শিক্ষার্থী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 189

ছবি সংগৃহীত

 

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগেই ঝরে গেছে অন্তত সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও এবারের মূল পরীক্ষায় তারা অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাল্যবিয়ে, বিদেশে পাড়ি জমানো এবং দারিদ্র্যসহ নানা আর্থ-সামাজিক কারণে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তবে তাদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে মাত্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর আর পরীক্ষার টেবিলে ফিরতে পারেনি।

আরও পড়ুন  কঠিন সময়ের মধ্যেও শিক্ষা ও শক্তি খুঁজে পাওয়ার উপায়

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেই ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৮ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। আর কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৮৩ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় বসছে ১ লাখ ৬ হাজার জন। তবে গত বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

এদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড গবেষণা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “গত বছরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে একটি বড় কারণ ছিল। এছাড়া অনেক ছেলে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।” এসব সমস্যা নিরসনে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৩৫ জন কমেছে। এই ধারাবাহিক পতন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষা থেকে গায়েব ৪ লাখ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগেই ঝরে গেছে অন্তত সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও এবারের মূল পরীক্ষায় তারা অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাল্যবিয়ে, বিদেশে পাড়ি জমানো এবং দারিদ্র্যসহ নানা আর্থ-সামাজিক কারণে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তবে তাদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে মাত্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর আর পরীক্ষার টেবিলে ফিরতে পারেনি।

আরও পড়ুন  ইসলামি শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আনার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেই ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৮ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। আর কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৮৩ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় বসছে ১ লাখ ৬ হাজার জন। তবে গত বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

এদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড গবেষণা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “গত বছরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে একটি বড় কারণ ছিল। এছাড়া অনেক ছেলে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।” এসব সমস্যা নিরসনে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৩৫ জন কমেছে। এই ধারাবাহিক পতন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।