ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বরিশালে ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ! ইরান যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমবে , শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট ‘আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়’: সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী স্পেনের নজিরবিহীন ঘোষণা: ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু নরসিংদীতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু যাত্রাবাড়ীতে তরুণীর অভিযোগে ধরা পড়ল সিরিয়াল প্রতারক আলবেনিয়া—ইউরোপের লুকানো সৌন্দর্য ও ইতিহাসের দেশ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পৌনে ২ লাখের বেশি, বাড়ানো হচ্ছে না ভাতা ৫ লাখ পদে নিয়োগ ও পেপাল চালুর উদ্যোগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 4

ছবি সংগৃহীত

 

বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে স্থিতিশীল করতে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশ দুটি বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। মস্কোর পক্ষ থেকে এই দুই পরাশক্তির সমন্বয়কে বিশ্বকে বিপদমুক্ত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মারিয়া জাখারোভা রাশিয়া ও চীনকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির বাইরেও এই দুই দেশ দুটি ভিন্ন সভ্যতা, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তাদের এই বিশেষ অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন  চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: নকলের ভেতর থেকে আসল পারমাণবিক বোমা চিনে ফেলবে AI

রুশ মুখপাত্রের মতে, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, বিপুল জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে দেশ দুটির সক্ষমতা বিশাল। জাখারোভা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে রাশিয়া ও বেইজিং তাদের এই সম্ভাবনাগুলোকে একত্রিত করছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি কমানো।

তবে এই জোটবদ্ধ হওয়ার পেছনে কোনো আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছে মস্কো। জাখারোভা স্পষ্টভাবে জানান যে, মস্কো ও বেইজিংয়ের লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া নয়। বরং বর্তমান ভঙ্গুর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে একটি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোন সভ্যতা কোন অঞ্চল বা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটি নিয়ে বিতর্কে জড়ানো এই দুই দেশের কাম্য নয়। বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদের এই সম্মিলিত প্রয়াস দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে রুশ প্রশাসনের প্রত্যাশা।

কূটনৈতিক এই তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীন সফর করেছেন। তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সফরকালে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তারিত বৈঠক করেন।

সফরকালে ল্যাভরভ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে দুই দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, তাদের এই পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের চার্টার মেনে বিশ্ব ব্যবস্থাকে একটি বহুমুখী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। এতে করে একক কোনো শক্তির আধিপত্য হ্রাস পাবে বলে তাদের দাবি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ল্যাভরভের এই চীন সফর সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকেই আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে।

রাশিয়া ও চীনের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে উত্তেজনার মধ্যেই এই দুই পরাশক্তি একে অপরের ওপর আস্থা বাড়াচ্ছে। মারিয়া জাখারোভার বক্তব্যে সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট

আপডেট সময় ০৭:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

 

বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে স্থিতিশীল করতে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশ দুটি বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। মস্কোর পক্ষ থেকে এই দুই পরাশক্তির সমন্বয়কে বিশ্বকে বিপদমুক্ত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মারিয়া জাখারোভা রাশিয়া ও চীনকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির বাইরেও এই দুই দেশ দুটি ভিন্ন সভ্যতা, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তাদের এই বিশেষ অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন  চীনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাবি শিক্ষার্থী রেদওয়ান ইসলাম রিদয়

রুশ মুখপাত্রের মতে, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, বিপুল জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে দেশ দুটির সক্ষমতা বিশাল। জাখারোভা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে রাশিয়া ও বেইজিং তাদের এই সম্ভাবনাগুলোকে একত্রিত করছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি কমানো।

তবে এই জোটবদ্ধ হওয়ার পেছনে কোনো আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছে মস্কো। জাখারোভা স্পষ্টভাবে জানান যে, মস্কো ও বেইজিংয়ের লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া নয়। বরং বর্তমান ভঙ্গুর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে একটি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোন সভ্যতা কোন অঞ্চল বা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটি নিয়ে বিতর্কে জড়ানো এই দুই দেশের কাম্য নয়। বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদের এই সম্মিলিত প্রয়াস দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে রুশ প্রশাসনের প্রত্যাশা।

কূটনৈতিক এই তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীন সফর করেছেন। তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সফরকালে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তারিত বৈঠক করেন।

সফরকালে ল্যাভরভ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে দুই দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, তাদের এই পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের চার্টার মেনে বিশ্ব ব্যবস্থাকে একটি বহুমুখী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। এতে করে একক কোনো শক্তির আধিপত্য হ্রাস পাবে বলে তাদের দাবি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ল্যাভরভের এই চীন সফর সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকেই আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে।

রাশিয়া ও চীনের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে উত্তেজনার মধ্যেই এই দুই পরাশক্তি একে অপরের ওপর আস্থা বাড়াচ্ছে। মারিয়া জাখারোভার বক্তব্যে সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।