ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বরিশালে ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ!

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 135

ছবি:সংগ্রহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেবল নিম্নমানের সামগ্রীই নয়, ব্রিজ নির্মাণের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যবধানে রড দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাইয়ের পরিবর্তে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ব্রিজের উত্তর পাশের কিছু অংশে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট চেয়ে নিয়ে কাজ শেষ করেন ওই ইউপি সদস্য।

আরও পড়ুন  ছয় দফা দাবিতে বরিশাল নার্সিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুই দফায় মোট আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন। কাজ চলাকালীন ঢালাইয়ে অনিয়ম দেখে স্থানীয়রা বাধা দিলে তিনি নামমাত্র ৫টি রড এনে কাজ চালিয়ে যান। এলাকার বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, “এই ব্রিজটি এখন আমাদের জন্য মরণফাঁদ। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আতঙ্কে আছি আমরা।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, “বাঁশ আমি ব্যবহার করিনি, স্থানীয়রা করেছে।” তবে রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজের জন্য পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে এ ধরনের কাজ করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। ঢালাইয়ের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ!

আপডেট সময় ০৭:৫১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেবল নিম্নমানের সামগ্রীই নয়, ব্রিজ নির্মাণের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যবধানে রড দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাইয়ের পরিবর্তে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ব্রিজের উত্তর পাশের কিছু অংশে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট চেয়ে নিয়ে কাজ শেষ করেন ওই ইউপি সদস্য।

আরও পড়ুন  ছয় দফা দাবিতে বরিশাল নার্সিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুই দফায় মোট আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন। কাজ চলাকালীন ঢালাইয়ে অনিয়ম দেখে স্থানীয়রা বাধা দিলে তিনি নামমাত্র ৫টি রড এনে কাজ চালিয়ে যান। এলাকার বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, “এই ব্রিজটি এখন আমাদের জন্য মরণফাঁদ। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আতঙ্কে আছি আমরা।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, “বাঁশ আমি ব্যবহার করিনি, স্থানীয়রা করেছে।” তবে রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজের জন্য পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে এ ধরনের কাজ করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। ঢালাইয়ের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।