ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বরিশালে ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ! ইরান যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমবে , শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট ‘আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়’: সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী স্পেনের নজিরবিহীন ঘোষণা: ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু নরসিংদীতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু যাত্রাবাড়ীতে তরুণীর অভিযোগে ধরা পড়ল সিরিয়াল প্রতারক আলবেনিয়া—ইউরোপের লুকানো সৌন্দর্য ও ইতিহাসের দেশ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পৌনে ২ লাখের বেশি, বাড়ানো হচ্ছে না ভাতা ৫ লাখ পদে নিয়োগ ও পেপাল চালুর উদ্যোগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্পেনের নজিরবিহীন ঘোষণা: ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 16

ছবি সংগৃহীত

 

অভিবাসন নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্পেন সরকার। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে আইনি স্বীকৃতি বা ‘সাধারণ ক্ষমা’ প্রদানের একটি কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। স্থানীয় সময় আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে এই বৈধকরণ প্রক্রিয়ার আবেদন শুরু হতে যাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন অভিবাসনবিরোধী কঠোর আইন ও মনোভাব বাড়ছে, তখন সানচেজ সরকারের এই উদ্যোগ স্পেনকে একটি ব্যতিক্রমী ও মানবিক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতাত্ত্বিক সংকট মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার বিপরীতে তরুণ শ্রমশক্তির জোগান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘে পাশ্চাত্যের দ্বিচারিতার সমালোচনা করলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ

স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ জানিয়েছেন, আবেদনের সময়সূচি নিম্নরূপ:
অনলাইন আবেদন: ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু।
সশরীরে আবেদন: ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে: আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না।

শর্ত পূরণকারী অভিবাসীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। এই সময়কাল শেষ হওয়ার পর তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করলেও দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বর্তমানে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার বিশেষ ‘ডিক্রি’ জারির মাধ্যমে আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর আগে আইনসভায় এ সংক্রান্ত একটি বিল পাসের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল সরকার।

বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অ-টেকসই ও অনিরাপদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সরকার মনে করছে, নথিবিহীন অভিবাসীদের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা হলে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমবাজার স্থিতিশীল হবে। সরকারি হিসাব মতে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পেনের নজিরবিহীন ঘোষণা: ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

 

অভিবাসন নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্পেন সরকার। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে আইনি স্বীকৃতি বা ‘সাধারণ ক্ষমা’ প্রদানের একটি কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। স্থানীয় সময় আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে এই বৈধকরণ প্রক্রিয়ার আবেদন শুরু হতে যাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন অভিবাসনবিরোধী কঠোর আইন ও মনোভাব বাড়ছে, তখন সানচেজ সরকারের এই উদ্যোগ স্পেনকে একটি ব্যতিক্রমী ও মানবিক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতাত্ত্বিক সংকট মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার বিপরীতে তরুণ শ্রমশক্তির জোগান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমাতে পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষের আগেই উদ্যোগ: স্টারমার

স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ জানিয়েছেন, আবেদনের সময়সূচি নিম্নরূপ:
অনলাইন আবেদন: ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু।
সশরীরে আবেদন: ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে: আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না।

শর্ত পূরণকারী অভিবাসীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। এই সময়কাল শেষ হওয়ার পর তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করলেও দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বর্তমানে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার বিশেষ ‘ডিক্রি’ জারির মাধ্যমে আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর আগে আইনসভায় এ সংক্রান্ত একটি বিল পাসের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল সরকার।

বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অ-টেকসই ও অনিরাপদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সরকার মনে করছে, নথিবিহীন অভিবাসীদের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা হলে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমবাজার স্থিতিশীল হবে। সরকারি হিসাব মতে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।