চুরির অভিযোগে গ্রাম্য শালিসে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, রণক্ষেত্র ভূজপুর
- আপডেট সময় ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 37
চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নে চুরির অভিযোগে আয়োজিত এক গ্রাম্য শালিসি বৈঠকে নুরুল আবছার (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার খন্দকার পাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই হামলায় মো. রাসেল নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আবছার স্থানীয় নুর নবীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে নুরুল আবছার ও রাসেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে খন্দকার পাড়া এলাকায় একটি গ্রাম্য শালিস ডাকা হয়। এজাহারে উল্লেখ করার মতো তথ্য অনুযায়ী, শালিস চলাকালীন অভিযুক্তদের ওপর চুরির দায় চাপানো হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একদল উত্তেজিত লোক আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে দুই যুবককে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই নির্যাতনে আবছার ও রাসেল সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে ভূজপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাত্ব অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আবছারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, রাসেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল, তবে দুর্ভাগ্যবশত আবছারের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিহত আবছার ও আহত রাসেলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই এলাকায় চুরির কিছু অভিযোগ ও মামলা ছিল। তবে ওসি স্পষ্ট করে বলেন, “কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।”
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

























