ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 212

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় কুয়েতের একাধিক তেল স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ‘উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি’র খবর পাওয়া গেছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) আজ রোববার (৫ এপ্রিল) এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কুয়েত সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলার পর তেলক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে আগুন ধরে যায়। কুয়েতি ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলোতে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুনা নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর থেকে কুয়েতের জ্বালানি খাত এক ধরনের স্থবিরতার মুখে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ইউনিটগুলো বর্তমানে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  আরব সাগরে মার্কিন রণতরীতে হুতিদের ড্রোন হামলার দাবি

কুয়েতে ড্রোন হামলার সমান্তরালে ইসরায়েলের দিকেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ইরান থেকে সরাসরি তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আরও একবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রাখা হয়েছে। ইরানের এই দ্বিমুখী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, রণক্ষেত্রে যখন চরম অস্থিরতা, তখন কূটনৈতিক টেবিলে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ওমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ‘মসৃণ ও নিরাপদ’ রাখার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ওমান সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ‘তেল চোকপয়েন্টে’ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন। এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আল জাজিরার সূত্রমতে, কুয়েতের ওপর এই হামলা বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করার এই কৌশলকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা

আপডেট সময় ০৭:০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় কুয়েতের একাধিক তেল স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ‘উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি’র খবর পাওয়া গেছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) আজ রোববার (৫ এপ্রিল) এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কুয়েত সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলার পর তেলক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে আগুন ধরে যায়। কুয়েতি ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলোতে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুনা নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর থেকে কুয়েতের জ্বালানি খাত এক ধরনের স্থবিরতার মুখে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ইউনিটগুলো বর্তমানে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সুমিতে শিশু-নারীসহ নিহত ৩

কুয়েতে ড্রোন হামলার সমান্তরালে ইসরায়েলের দিকেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ইরান থেকে সরাসরি তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আরও একবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রাখা হয়েছে। ইরানের এই দ্বিমুখী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, রণক্ষেত্রে যখন চরম অস্থিরতা, তখন কূটনৈতিক টেবিলে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ওমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ‘মসৃণ ও নিরাপদ’ রাখার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ওমান সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ‘তেল চোকপয়েন্টে’ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন। এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আল জাজিরার সূত্রমতে, কুয়েতের ওপর এই হামলা বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করার এই কৌশলকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।