দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি
- আপডেট সময় ০৬:০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 153
সরকারের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে নিজ রাজনৈতিক সংগঠন ‘গণসংহতি আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে গণসংহতি আন্দোলনের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ৫৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় তিনি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোনায়েদ সাকি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে তিনি দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তী এক প্রশাসনিক রদবদলে তাঁর দপ্তর পরিবর্তন করে শুধুমাত্র পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনা করছেন।
জোনায়েদ সাকি পদত্যাগ করার পর দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিমন্ত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। জোনায়েদ সাকি পদ ছাড়লেও দলের একজন সাধারণ সদস্য এবং অভিভাবক হিসেবে সর্বদা পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন বলে সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পেশাদারিত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন তিনি সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে পারবেন, অন্যদিকে দলটিও নতুন নেতৃত্বের অধীনে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।


























