ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

যুদ্ধ বিরতিতে কঠোর শর্ত ইরানের, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ছাড়া কোনো আপস নয়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 128

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলমান যুদ্ধ পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইরানের প্রধান শক্তি। গত এক মাস ধরে ইসলামি ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও বিশাল সমাবেশকে তিনি জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  উচ্চ সতর্কতায় ইরান, প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি

প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জরুরি সেবা সচল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। আক্রমণকারীদের শক্তিশালী জবাব দেওয়ার এই ধারাকে তিনি জাতির গর্বিত ইতিহাসের এক ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধের এই ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় সেবা খাতগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সব খাতের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বিরতি বা সমাপ্তি নিয়ে পশ্চিমা চাপের বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল তখনই আলোচনার টেবিলে বসবে, যখন দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান গ্রহণ করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধ বিরতিতে কঠোর শর্ত ইরানের, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ছাড়া কোনো আপস নয়

আপডেট সময় ০৫:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলমান যুদ্ধ পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইরানের প্রধান শক্তি। গত এক মাস ধরে ইসলামি ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও বিশাল সমাবেশকে তিনি জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা, ইরানের পাল্টা হামলা শুরু

প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জরুরি সেবা সচল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। আক্রমণকারীদের শক্তিশালী জবাব দেওয়ার এই ধারাকে তিনি জাতির গর্বিত ইতিহাসের এক ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধের এই ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় সেবা খাতগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সব খাতের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বিরতি বা সমাপ্তি নিয়ে পশ্চিমা চাপের বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল তখনই আলোচনার টেবিলে বসবে, যখন দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান গ্রহণ করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।