গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি: সীমান্ত বন্ধে দিশেহারা ২০ লাখ মানুষ
- আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / 24
ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন জোটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় এখন নতুন করে হানা দিয়েছে দুর্ভিক্ষের আতঙ্ক। ইসরায়েল সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সহায়তা সংস্থাগুলোর দাবি, বর্তমানে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে, তা দিয়ে এক সপ্তাহও চলা সম্ভব নয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নতুন কোনো ত্রাণের ট্রাক প্রবেশ করেনি। ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’-এর প্রধান হোসে আন্দ্রেস সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিদিন ১০ লাখ প্যাকেট খাবার সরবরাহের জন্য তাঁদের নিয়মিত রসদ প্রয়োজন। সীমান্ত বন্ধ থাকলে শিগগিরই তাদের কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে স্থানীয় বেকারিগুলোতে মাত্র ১০ দিনের ময়দা এবং পুরো গাজায় বড়জোর এক সপ্তাহের তাজা খাবারের মজুত অবশিষ্ট রয়েছে।
ইরানের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গাজার বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ কেজি ময়দার বস্তার দাম বেড়েছে তিন গুণ। চিনি, তেল ও শিশুদের ডায়াপারের দামও দ্বিগুণ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সোবহি আল-জানেন বলেন, “আমরা গোলাগুলির চেয়ে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় বেশি আতঙ্কিত।” তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত বহু মানুষের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় চড়া দামে খাবার কিনে মজুত করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন তাঁরা।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান জ্যান এগেল্যান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনি দায়িত্ব। যুদ্ধের অজুহাতে এই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে ডিসেম্বরে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, গাজার প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার শিকার।
নিরাপত্তার অজুহাতে সীমান্ত বন্ধ রাখলেও ইসরায়েল দাবি করেছে, মানবিক সহায়তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে না। গতকাল মঙ্গলবার থেকে কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
























