ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

সৌরজগতের বাইরে থাকা তরুণ এক নক্ষত্রের বলয়ে জমাট বরফের সন্ধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 159

ছবি সংগৃহীত

 

সৌরজগতের বাইরে থাকা কোনো নক্ষত্রে বরফশীতল পানির অস্তিত্ব আছে কি না, তা জানতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরে থাকা এইচডি ১৮১৩২৭ নক্ষত্রের ধুলিকণাযুক্ত বলয়ে স্ফটিক আকারের বরফের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বৃহস্পতি বা শনির উপগ্রহ ও প্লুটোর মতো বামন গ্রহতে বরফ থাকা স্বাভাবিক বিষয় হলেও ভিনগ্রহের কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে এর আগে সরাসরি বরফ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী চেন সি জানান, ওয়েব টেলিস্কোপ পানির অস্তিত্বসহ স্ফটিকাকার বরফের দ্ব্যর্থহীন উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। আমাদের সৌরজগতের শনির বলয় বা কুইপার বেল্টে ঠিক যে ধরনের বরফ পাওয়া যায় এটি অনেকটা তেমনই। এর আগে ২০০৮ সালে স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ এই নক্ষত্র বলয়ে বরফ থাকার ইঙ্গিত দিলেও তখন তা নিশ্চিত করার মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তি ছিল না। জেমস ওয়েবের সূক্ষ্ম দৃষ্টি ধুলো ও পাথরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র বরফকণাগুলোকেও আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন  মহাকাশ স্টেশনে নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নক্ষত্র বলয়ে বরফ থাকা মানে সেখানে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়া। বিষয়টি ব্যাখা করে বিজ্ঞানী চেন সি জানান, এই বরফযুক্ত উপাদানগুলোই কোটি কোটি বছর পর তৈরি হতে যাওয়া পাথুরে গ্রহতে পানির জোগান দেয়। ঠিক যেভাবে পৃথিবীর জন্মের পর ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মাধ্যমে পানি এসেছিল বলে ধারণা করা হয়।

আমাদের ৪৬০ কোটি বছর বয়সী সূর্যের তুলনায় এইচডি ১৮১৩২৭ নক্ষত্রটি বেশ তরুণ, এর বয়স মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ বছর। বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা নক্ষত্রটিতে পাথর, ধুলো আর বরফখণ্ডগুলো অনবরত একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এ বিষয়ে স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন চেন জানিয়েছেন, এটি একটি অত্যন্ত সক্রিয় জগৎ। যখনই বরফখণ্ডগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে, তখনই অতি ক্ষুদ্র বরফকণাগুলো ছড়িয়ে পড়ছে, যা জেমস ওয়েব শনাক্ত করেছে। নক্ষত্রটির কাছাকাছি অঞ্চলে বরফের পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ, কারণ সেখানে থাকা তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি বরফকে বাষ্পীভূত করে ফেলে। কিন্তু বাইরের দিকে তাপমাত্রা অনেক কম থাকায় সেখানে বরফের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌরজগতের বাইরে থাকা তরুণ এক নক্ষত্রের বলয়ে জমাট বরফের সন্ধান

আপডেট সময় ০৩:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সৌরজগতের বাইরে থাকা কোনো নক্ষত্রে বরফশীতল পানির অস্তিত্ব আছে কি না, তা জানতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরে থাকা এইচডি ১৮১৩২৭ নক্ষত্রের ধুলিকণাযুক্ত বলয়ে স্ফটিক আকারের বরফের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বৃহস্পতি বা শনির উপগ্রহ ও প্লুটোর মতো বামন গ্রহতে বরফ থাকা স্বাভাবিক বিষয় হলেও ভিনগ্রহের কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে এর আগে সরাসরি বরফ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী চেন সি জানান, ওয়েব টেলিস্কোপ পানির অস্তিত্বসহ স্ফটিকাকার বরফের দ্ব্যর্থহীন উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। আমাদের সৌরজগতের শনির বলয় বা কুইপার বেল্টে ঠিক যে ধরনের বরফ পাওয়া যায় এটি অনেকটা তেমনই। এর আগে ২০০৮ সালে স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ এই নক্ষত্র বলয়ে বরফ থাকার ইঙ্গিত দিলেও তখন তা নিশ্চিত করার মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তি ছিল না। জেমস ওয়েবের সূক্ষ্ম দৃষ্টি ধুলো ও পাথরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র বরফকণাগুলোকেও আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইলনের প্রশংসা করলেন পুতিন, তুলনা করলেন সোভিয়েত মহাকাশ কিংবদন্তির সঙ্গে

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নক্ষত্র বলয়ে বরফ থাকা মানে সেখানে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়া। বিষয়টি ব্যাখা করে বিজ্ঞানী চেন সি জানান, এই বরফযুক্ত উপাদানগুলোই কোটি কোটি বছর পর তৈরি হতে যাওয়া পাথুরে গ্রহতে পানির জোগান দেয়। ঠিক যেভাবে পৃথিবীর জন্মের পর ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মাধ্যমে পানি এসেছিল বলে ধারণা করা হয়।

আমাদের ৪৬০ কোটি বছর বয়সী সূর্যের তুলনায় এইচডি ১৮১৩২৭ নক্ষত্রটি বেশ তরুণ, এর বয়স মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ বছর। বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা নক্ষত্রটিতে পাথর, ধুলো আর বরফখণ্ডগুলো অনবরত একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এ বিষয়ে স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন চেন জানিয়েছেন, এটি একটি অত্যন্ত সক্রিয় জগৎ। যখনই বরফখণ্ডগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে, তখনই অতি ক্ষুদ্র বরফকণাগুলো ছড়িয়ে পড়ছে, যা জেমস ওয়েব শনাক্ত করেছে। নক্ষত্রটির কাছাকাছি অঞ্চলে বরফের পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ, কারণ সেখানে থাকা তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি বরফকে বাষ্পীভূত করে ফেলে। কিন্তু বাইরের দিকে তাপমাত্রা অনেক কম থাকায় সেখানে বরফের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি রয়েছে।