০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফের টানা কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 47

ছবি: সংগৃহীত

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও লাগাতার ধর্মঘটে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে বন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ডেলিভারি ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্যবাহী যান প্রবেশ করেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কাজে যোগ দেননি। ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কর্মসূচি দমন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দরের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই ধর্মঘট চলছে এবং কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে সংগঠনের দুজনকে তুলে নেওয়ার খবর তারা পেয়েছেন।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথমে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে একই দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হয়। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি।

এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও শনিবার আবার সংবাদ সম্মেলন করে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় সংগ্রাম পরিষদ।

আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফের টানা কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট সময় ১১:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও লাগাতার ধর্মঘটে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে বন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ডেলিভারি ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্যবাহী যান প্রবেশ করেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কাজে যোগ দেননি। ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কর্মসূচি দমন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দরের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই ধর্মঘট চলছে এবং কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে সংগঠনের দুজনকে তুলে নেওয়ার খবর তারা পেয়েছেন।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথমে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে একই দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হয়। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি।

এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও শনিবার আবার সংবাদ সম্মেলন করে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় সংগ্রাম পরিষদ।

আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।