সিকিমে টানা ভূমিকম্পে কাঁপল অঞ্চল, কম্পন টের বাংলাদেশেও
- আপডেট সময় ১২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 38
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে টানা ১৩টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এসব কম্পনের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে, ফলে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে (ভারতীয় সময়) সিকিমের গেলসিং এলাকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মূল ভূমিকম্পের পরপরই একের পর এক আফটারশক অনুভূত হয়। মঙ্গন এলাকায় সাতটি এবং নামচি এলাকায় চারটি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এছাড়া গ্যাংটকে ৩ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পন ধরা পড়ে।
টানা কম্পনে সিকিমজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতে অনেক পর্যটক হোটেল ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অনেকেই। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।
বাংলাদেশেও কম্পন, উত্তরাঞ্চলে আতঙ্ক
ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কম্পন টের পান বাসিন্দারা। হঠাৎ কম্পনে অনেকের ঘুম ভেঙে যায় এবং কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাগর, সুমন ও নিরব জানান, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। কম্পনের স্থায়িত্ব অল্প সময়ের হলেও মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। একইভাবে দিনাজপুর জেলার কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতে কোথাও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।




















