ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 774

ছবি: খবরের কথা

 

২০২২ সালের শুরুতে সৌদি আরবের প্রো লিগে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গনে বড় আলোড়ন তুলেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার পথ অনুসরণ করে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক তারকা ফুটবলার সৌদি লিগে নাম লেখান। তবে সেই পথপ্রদর্শক রোনালদোর সঙ্গেই এবার মতানৈক্য তৈরি হয়েছে সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া প্রকল্পের মূল নিয়ন্ত্রক পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে। এর জের ধরে আল নাসরের টানা দুটি ম্যাচে মাঠে নামেননি তিনি।

ইএসপিএনের সূত্র অনুযায়ী, রোনালদো চাননি করিম বেনজেমা যেন আল ইত্তিহাদ ছেড়ে আল হিলালে যোগ দেন। তার দৃষ্টিতে, এ ধরনের দলবদল প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং পিআইএফের ব্যবস্থাপনায় আল হিলালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ক্লাবগুলোর ট্রান্সফার কার্যক্রমে পিআইএফের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তিনি এই দুই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আগামী জুনে আল নাসর ছাড়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  আবার একসঙ্গে মেসি-রোনালদো? ক্লাব বিশ্বকাপে জেগেছে এক দলে খেলার সম্ভাবনা

সৌদি প্রো লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল আল হিলাল। চলতি মৌসুমে তাদের স্কোয়াড আরও শক্তিশালী হলেও আল নাসর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে। এখন পর্যন্ত তারা কেবল একজন অনূর্ধ্ব-২৩ ইরাকি মিডফিল্ডারকে দলে নিয়েছে। এই ব্যবধান নিয়েই মূলত শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোনালদো। যদিও ম্যাচ খেলেননি, তবে তিনি দলের অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। তার মাঠে ফেরা নির্ভর করছে এ বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

এরই মধ্যে আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কোতিনিয়ো এবং প্রধান নির্বাহী হোসেন সেমেদোকে পিআইএফের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রোনালদোর অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে এবং কোচ জর্জ জেসুসের দল গঠনের পরিকল্পনাতেও বাধা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আল নাসরের ব্যয়ের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, আল হিলাল বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে সৌদি যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালাল আলসাউদের কাছ থেকে। এই অর্থই স্কোয়াড শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গেছে, চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে বেনজেমাসহ বড় দলবদলের খরচ বহন করেছেন এই বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী। আল হিলালের মালিকানার ২৫ শতাংশ তার হাতে, বাকি ৭৫ শতাংশ পিআইএফের অধীনে।

২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো ট্রফির স্বাদ পাননি রোনালদো। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগ্রহ থাকলেও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সময় তিনি অন্য কোথাও যেতে চান না। আল নাসরের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। একই সঙ্গে সৌদি প্রো লিগও তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে হারাতে আগ্রহী নয়—এ কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো

আপডেট সময় ১২:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

২০২২ সালের শুরুতে সৌদি আরবের প্রো লিগে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গনে বড় আলোড়ন তুলেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার পথ অনুসরণ করে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক তারকা ফুটবলার সৌদি লিগে নাম লেখান। তবে সেই পথপ্রদর্শক রোনালদোর সঙ্গেই এবার মতানৈক্য তৈরি হয়েছে সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া প্রকল্পের মূল নিয়ন্ত্রক পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে। এর জের ধরে আল নাসরের টানা দুটি ম্যাচে মাঠে নামেননি তিনি।

ইএসপিএনের সূত্র অনুযায়ী, রোনালদো চাননি করিম বেনজেমা যেন আল ইত্তিহাদ ছেড়ে আল হিলালে যোগ দেন। তার দৃষ্টিতে, এ ধরনের দলবদল প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং পিআইএফের ব্যবস্থাপনায় আল হিলালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ক্লাবগুলোর ট্রান্সফার কার্যক্রমে পিআইএফের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তিনি এই দুই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আগামী জুনে আল নাসর ছাড়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  কানাডায় শুরু হলো মার্কিন পণ্যের বয়কট: ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা

সৌদি প্রো লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল আল হিলাল। চলতি মৌসুমে তাদের স্কোয়াড আরও শক্তিশালী হলেও আল নাসর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে। এখন পর্যন্ত তারা কেবল একজন অনূর্ধ্ব-২৩ ইরাকি মিডফিল্ডারকে দলে নিয়েছে। এই ব্যবধান নিয়েই মূলত শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোনালদো। যদিও ম্যাচ খেলেননি, তবে তিনি দলের অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। তার মাঠে ফেরা নির্ভর করছে এ বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

এরই মধ্যে আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কোতিনিয়ো এবং প্রধান নির্বাহী হোসেন সেমেদোকে পিআইএফের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রোনালদোর অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে এবং কোচ জর্জ জেসুসের দল গঠনের পরিকল্পনাতেও বাধা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আল নাসরের ব্যয়ের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, আল হিলাল বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে সৌদি যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালাল আলসাউদের কাছ থেকে। এই অর্থই স্কোয়াড শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গেছে, চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে বেনজেমাসহ বড় দলবদলের খরচ বহন করেছেন এই বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী। আল হিলালের মালিকানার ২৫ শতাংশ তার হাতে, বাকি ৭৫ শতাংশ পিআইএফের অধীনে।

২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো ট্রফির স্বাদ পাননি রোনালদো। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগ্রহ থাকলেও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সময় তিনি অন্য কোথাও যেতে চান না। আল নাসরের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। একই সঙ্গে সৌদি প্রো লিগও তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে হারাতে আগ্রহী নয়—এ কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।