টানা চতুর্থ দিনে কমল স্বর্ণের দাম
- আপডেট সময় ১১:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 54
বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী সপ্তাহের নীতিনির্ধারণী বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে নেমে আসে।
ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কুইজম্যান বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা চাপের মুখে থাকতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ বজায় থাকার পাশাপাশি কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশাও জোরালো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন উদ্বেগও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
তবে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক। তাঁর মতে, আগামী বছর সুদের হার বাড়ানোর যেসব সম্ভাবনা বাজারে ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কিছু বাদ পড়লে বা সম্ভাবনা কমে গেলে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদের ধারণা, ফেড চলতি অক্টোবর মাসে সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে। তবে ডিসেম্বরে আবার সুদের হার বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সময় নিতে পারেন।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়। কারণ, স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদে বিনিয়োগের তুলনায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, যা মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সূচক স্থিতিশীল হয়েছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা আরও কমেছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের সূচক এটি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। বুধবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্টে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০ ডলার ৮৪ সেন্টে নেমে আসে।


























