ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

“বেইজিং: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার শহর”

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 593

ছবি: সংগৃহীত

 

চীনের হাজার বছরের ইতিহাস, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দ্রুতগতির আধুনিক উন্নয়নের এক অনন্য মিলনস্থল হলো বেইজিং। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন রাজধানী এই শহরটি অতীত ও বর্তমানকে পাশাপাশি ধরে রেখে আজও বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বেইজিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত ও দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে রয়েছে চীনের মহাপ্রাচীর। হাজার বছর আগে সাম্রাজ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই প্রাচীর বর্তমানে বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃত। এটি চীনা সভ্যতার শক্তি, অধ্যবসায় ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন  রিও ডি জেনিরো ইতিহাস, প্রকৃতি আর জীবনের উৎসব

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিষিদ্ধ নগরী বা ফরবিডেন সিটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে চীনের সম্রাটদের আবাসস্থল ছিল। বিশাল এই প্রাসাদ কমপ্লেক্সের স্থাপত্যশৈলী, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক মূল্য একে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

বেইজিংয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান তিয়ানানমেন স্কয়ার, যা বিশ্বের বৃহত্তম নগর প্রাঙ্গণগুলোর একটি। চীনের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা এই প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। আজও এটি দেশের জাতীয় ও প্রতীকী স্থানের মর্যাদা বহন করছে।

এছাড়া টেম্পল অব হেভেন বেইজিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। মিং ও ছিং রাজবংশের সম্রাটরা এখানে ভালো ফসল ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করতেন। এর বৃত্তাকার স্থাপত্য চীনা দর্শন ও ঐতিহ্যের গভীর প্রতিফলন।

ইতিহাসের পাশাপাশি আধুনিকতার দিক থেকেও বেইজিং অনন্য। অলিম্পিক স্টেডিয়াম ‘বার্ডস নেস্ট’ এবং ওয়াটার কিউব আধুনিক চীনের স্থাপত্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন শহরটিকে আধুনিক চীনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছে।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও বেইজিংয়ের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী পেকিং ডাক শতাব্দীপ্রাচীন এক জনপ্রিয় খাবার, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও আধুনিক উন্নয়নের এক ব্যতিক্রমী সমন্বয় বেইজিং। সে কারণেই চীন ভ্রমণের তালিকায় এই শহরকে ‘অবশ্যই দেখার মতো’ একটি গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন:

নিউজটি শেয়ার করুন

“বেইজিং: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার শহর”

আপডেট সময় ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

চীনের হাজার বছরের ইতিহাস, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দ্রুতগতির আধুনিক উন্নয়নের এক অনন্য মিলনস্থল হলো বেইজিং। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন রাজধানী এই শহরটি অতীত ও বর্তমানকে পাশাপাশি ধরে রেখে আজও বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বেইজিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত ও দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে রয়েছে চীনের মহাপ্রাচীর। হাজার বছর আগে সাম্রাজ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই প্রাচীর বর্তমানে বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃত। এটি চীনা সভ্যতার শক্তি, অধ্যবসায় ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন  ইতিহাস গড়লেন মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনল্ড

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিষিদ্ধ নগরী বা ফরবিডেন সিটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে চীনের সম্রাটদের আবাসস্থল ছিল। বিশাল এই প্রাসাদ কমপ্লেক্সের স্থাপত্যশৈলী, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক মূল্য একে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

বেইজিংয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান তিয়ানানমেন স্কয়ার, যা বিশ্বের বৃহত্তম নগর প্রাঙ্গণগুলোর একটি। চীনের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা এই প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। আজও এটি দেশের জাতীয় ও প্রতীকী স্থানের মর্যাদা বহন করছে।

এছাড়া টেম্পল অব হেভেন বেইজিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। মিং ও ছিং রাজবংশের সম্রাটরা এখানে ভালো ফসল ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করতেন। এর বৃত্তাকার স্থাপত্য চীনা দর্শন ও ঐতিহ্যের গভীর প্রতিফলন।

ইতিহাসের পাশাপাশি আধুনিকতার দিক থেকেও বেইজিং অনন্য। অলিম্পিক স্টেডিয়াম ‘বার্ডস নেস্ট’ এবং ওয়াটার কিউব আধুনিক চীনের স্থাপত্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন শহরটিকে আধুনিক চীনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছে।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও বেইজিংয়ের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী পেকিং ডাক শতাব্দীপ্রাচীন এক জনপ্রিয় খাবার, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও আধুনিক উন্নয়নের এক ব্যতিক্রমী সমন্বয় বেইজিং। সে কারণেই চীন ভ্রমণের তালিকায় এই শহরকে ‘অবশ্যই দেখার মতো’ একটি গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন: