১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধী দেশে শুল্ক আরোপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় বিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন

ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৩

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 88

ছবি: সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় লেবাননের সিরিয়া সীমান্ত এবং দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উত্তর-পূর্ব লেবাননের হারমেল জেলার হাউশ আল-সাইয়্যেদ আলি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে ২ জন প্রাণ হারান।

এলাকাটি সিরিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় একে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম এলাকায় পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে আরও ১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননের আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হুসেইন মাহমুদ মারশাদ আল-জাওহারিকে এই হামলায় হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আল-জাওহারি লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাজদাল সেলমের অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সক্রিয় সদস্যকেও তারা হত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের শান্ত থাকার কথা ছিল, তবে ইসরায়েল বর্তমানে কৌশলগত দোহাই দিয়ে লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।

এদিকে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক চাপ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনই তাদের সকল অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে রাখছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চুক্তির শর্ত ভঙ্গের এই ধারাবাহিকতায় লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো সংঘাত নিরসনে কাজ করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৩

আপডেট সময় ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় লেবাননের সিরিয়া সীমান্ত এবং দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উত্তর-পূর্ব লেবাননের হারমেল জেলার হাউশ আল-সাইয়্যেদ আলি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে ২ জন প্রাণ হারান।

এলাকাটি সিরিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় একে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম এলাকায় পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে আরও ১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননের আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হুসেইন মাহমুদ মারশাদ আল-জাওহারিকে এই হামলায় হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আল-জাওহারি লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাজদাল সেলমের অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সক্রিয় সদস্যকেও তারা হত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের শান্ত থাকার কথা ছিল, তবে ইসরায়েল বর্তমানে কৌশলগত দোহাই দিয়ে লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।

এদিকে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক চাপ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনই তাদের সকল অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে রাখছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চুক্তির শর্ত ভঙ্গের এই ধারাবাহিকতায় লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো সংঘাত নিরসনে কাজ করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।