ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

বান্দরবানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 627

ছবি: সংগৃহীত

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বী আমতলী মুসলিম পাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাই আব্দুর রহমান (২৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বড় ভাই আব্দুর শুক্কুর ও তার স্ত্রী মিনুয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এ নিয়ে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষই উপস্থিত হলে বৈঠক শুরুর আগে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে আব্দুর শুক্কুরের তিন শ্যালক মিলে আব্দুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করেন।

আরও পড়ুন  ড্রামে করে রাখা ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ, আটক ৩

আহত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের ভাবী মিনুয়ারা বেগম ও তার মা সালমা বেগমসহ পাঁচজনকে আটক করে বেঁধে রাখে। আটক অন্য তিনজন হলেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), মো. রিয়াজ উদ্দিন (২২) ও মো. জাহেদ (৩০)। তারা সবাই চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিনুয়ারার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আজিজনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ছৈয়দুর রহমান বলেন, “শুক্কুর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় আলোচনা ছিল। সালিশের জন্য সবাই জড়ো হলেও আচমকা এমন হামলার ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি।”

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্দরবানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ৫

আপডেট সময় ১২:৩২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বী আমতলী মুসলিম পাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাই আব্দুর রহমান (২৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বড় ভাই আব্দুর শুক্কুর ও তার স্ত্রী মিনুয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এ নিয়ে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষই উপস্থিত হলে বৈঠক শুরুর আগে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে আব্দুর শুক্কুরের তিন শ্যালক মিলে আব্দুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করেন।

আরও পড়ুন  ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক করা হয়েছে

আহত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের ভাবী মিনুয়ারা বেগম ও তার মা সালমা বেগমসহ পাঁচজনকে আটক করে বেঁধে রাখে। আটক অন্য তিনজন হলেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), মো. রিয়াজ উদ্দিন (২২) ও মো. জাহেদ (৩০)। তারা সবাই চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিনুয়ারার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আজিজনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ছৈয়দুর রহমান বলেন, “শুক্কুর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় আলোচনা ছিল। সালিশের জন্য সবাই জড়ো হলেও আচমকা এমন হামলার ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি।”

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।