ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

বান্দরবানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 769

ছবি: সংগৃহীত

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বী আমতলী মুসলিম পাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাই আব্দুর রহমান (২৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বড় ভাই আব্দুর শুক্কুর ও তার স্ত্রী মিনুয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এ নিয়ে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষই উপস্থিত হলে বৈঠক শুরুর আগে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে আব্দুর শুক্কুরের তিন শ্যালক মিলে আব্দুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করেন।

আরও পড়ুন  ঢাকায় ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা আটক

আহত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের ভাবী মিনুয়ারা বেগম ও তার মা সালমা বেগমসহ পাঁচজনকে আটক করে বেঁধে রাখে। আটক অন্য তিনজন হলেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), মো. রিয়াজ উদ্দিন (২২) ও মো. জাহেদ (৩০)। তারা সবাই চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিনুয়ারার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আজিজনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ছৈয়দুর রহমান বলেন, “শুক্কুর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় আলোচনা ছিল। সালিশের জন্য সবাই জড়ো হলেও আচমকা এমন হামলার ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি।”

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্দরবানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ৫

আপডেট সময় ১২:৩২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বী আমতলী মুসলিম পাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাই আব্দুর রহমান (২৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বড় ভাই আব্দুর শুক্কুর ও তার স্ত্রী মিনুয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এ নিয়ে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষই উপস্থিত হলে বৈঠক শুরুর আগে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে আব্দুর শুক্কুরের তিন শ্যালক মিলে আব্দুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করেন।

আরও পড়ুন  ড্রামে করে রাখা ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ, আটক ৩

আহত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের ভাবী মিনুয়ারা বেগম ও তার মা সালমা বেগমসহ পাঁচজনকে আটক করে বেঁধে রাখে। আটক অন্য তিনজন হলেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), মো. রিয়াজ উদ্দিন (২২) ও মো. জাহেদ (৩০)। তারা সবাই চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিনুয়ারার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আজিজনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ছৈয়দুর রহমান বলেন, “শুক্কুর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় আলোচনা ছিল। সালিশের জন্য সবাই জড়ো হলেও আচমকা এমন হামলার ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি।”

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।