ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

ইরানে বিজ্ঞানীদের উপর হামলা: ১২ দিনে ১৪ জন নিহত, দাবি ইসরায়েলের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 491

ছবি সংগৃহীত

 

১২ দিনের টানা সংঘাতে ইরানের অন্তত ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও প্রকৌশলীরা রয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জোশুয়া জারকা জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট বোমা হামলার পরও যেসব পারমাণবিক অবকাঠামো ও উপকরণ টিকে ছিল, বিজ্ঞানীদের হত্যার মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকারিতা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আর নেই, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

রাষ্ট্রদূত জোশুয়ার ভাষ্য, “ইরানি বিজ্ঞানীদের একটি পুরো দল নিশ্চিহ্ন হওয়ায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর পিছিয়ে গেছে।”

এই বক্তব্যের পরদিন, মঙ্গলবার, আরও এক ইরানি পরমাণুবিজ্ঞানীর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রাজধানী তেহরানে এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন বিজ্ঞানী মোহাম্মদ রেজা সেদিঘি সাবের।

এর আগে ১৩ জুন সংঘাত শুরুর দিনে তাঁর ওপর একবার হামলা চালানো হয়েছিল, তবে সেবার তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে সে হামলায় নিহত হন তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলে।

তবে রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, ইরানে এখনও অনেক বিজ্ঞানী রয়েছেন, যারা দ্রুতই নিহতদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাই এসব হত্যাকাণ্ড পারমাণবিক কর্মসূচিকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও, একে পুরোপুরি থামাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েল প্রথম হামলা চালায়, যার জবাবে পাল্টা হামলায় নামে ইরান। এরপর ২১ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ২৩ জুন কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১২ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ইরান ও ইসরায়েল আপাতত সংঘাত থেকে সরে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে বিজ্ঞানীদের উপর হামলা: ১২ দিনে ১৪ জন নিহত, দাবি ইসরায়েলের

আপডেট সময় ১০:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

 

১২ দিনের টানা সংঘাতে ইরানের অন্তত ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও প্রকৌশলীরা রয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জোশুয়া জারকা জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট বোমা হামলার পরও যেসব পারমাণবিক অবকাঠামো ও উপকরণ টিকে ছিল, বিজ্ঞানীদের হত্যার মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকারিতা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন

রাষ্ট্রদূত জোশুয়ার ভাষ্য, “ইরানি বিজ্ঞানীদের একটি পুরো দল নিশ্চিহ্ন হওয়ায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর পিছিয়ে গেছে।”

এই বক্তব্যের পরদিন, মঙ্গলবার, আরও এক ইরানি পরমাণুবিজ্ঞানীর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রাজধানী তেহরানে এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন বিজ্ঞানী মোহাম্মদ রেজা সেদিঘি সাবের।

এর আগে ১৩ জুন সংঘাত শুরুর দিনে তাঁর ওপর একবার হামলা চালানো হয়েছিল, তবে সেবার তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে সে হামলায় নিহত হন তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলে।

তবে রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, ইরানে এখনও অনেক বিজ্ঞানী রয়েছেন, যারা দ্রুতই নিহতদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাই এসব হত্যাকাণ্ড পারমাণবিক কর্মসূচিকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও, একে পুরোপুরি থামাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েল প্রথম হামলা চালায়, যার জবাবে পাল্টা হামলায় নামে ইরান। এরপর ২১ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ২৩ জুন কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১২ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ইরান ও ইসরায়েল আপাতত সংঘাত থেকে সরে এসেছে।