ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মানবপাচার ও দালাল সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত অভিবাসন খাত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 647

ছবি সংগৃহীত

 

 

দেশে মানবপাচারের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই অপরাধে দায়ের করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি মামলা। অথচ এর বিপরীতে সাজা হয়েছে মাত্র ১৫৭ জনের। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে বহু মানুষকে পাচার করছে এক শ্রেণির দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি।

আরও পড়ুন  অর্থ ও মানবপাচার মামলায় সাবেক এমপি সেলিনা ইসলাম গ্রেপ্তার

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই খাতে সংস্কারের আশায় থাকলেও গত ১০ মাসে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মানবপাচারের বহু মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির সুযোগ এই অপরাধ বাড়িয়ে তুলছে। অনেকেই জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন। এতে দেশের অভিবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

এক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তিনি ইতালি যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করে দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন। তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হলে সেখানে অপহরণ করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের পর লিবিয়া উপকূলরক্ষীদের হাতে ধরা পড়লে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আইওএমের সহায়তায় তিনি দেশে ফেরেন।

এদিকে, মানবপাচারের নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের পর দেশটি ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়, যার সমাধান এখনো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্টেও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের মানবপাচার নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ বৈঠকে আলোচনায় এসেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৮০ জনকে মানবপাচারের মামলায় আসামি করা হলেও মাত্র ২৪ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে তিন হাজার ১৪১ জন খালাস পেয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মানবপাচার রোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। শুধু দেশীয় আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন আন্তঃদেশীয় উদ্যোগ।

সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, মানবপাচার ও সিন্ডিকেট দমনে সরকার সক্রিয় এবং দুদক ও বিএমইটি যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাস্তবচিত্র বলছে, অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবপাচার ও দালাল সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত অভিবাসন খাত

আপডেট সময় ০২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

 

দেশে মানবপাচারের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই অপরাধে দায়ের করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি মামলা। অথচ এর বিপরীতে সাজা হয়েছে মাত্র ১৫৭ জনের। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে বহু মানুষকে পাচার করছে এক শ্রেণির দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন: ২৩ বাংলাদেশিসহ ২৭৮ অভিবাসী ফেরত

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই খাতে সংস্কারের আশায় থাকলেও গত ১০ মাসে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মানবপাচারের বহু মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির সুযোগ এই অপরাধ বাড়িয়ে তুলছে। অনেকেই জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন। এতে দেশের অভিবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

এক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তিনি ইতালি যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করে দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন। তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হলে সেখানে অপহরণ করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের পর লিবিয়া উপকূলরক্ষীদের হাতে ধরা পড়লে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আইওএমের সহায়তায় তিনি দেশে ফেরেন।

এদিকে, মানবপাচারের নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের পর দেশটি ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়, যার সমাধান এখনো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্টেও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের মানবপাচার নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ বৈঠকে আলোচনায় এসেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৮০ জনকে মানবপাচারের মামলায় আসামি করা হলেও মাত্র ২৪ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে তিন হাজার ১৪১ জন খালাস পেয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মানবপাচার রোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। শুধু দেশীয় আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন আন্তঃদেশীয় উদ্যোগ।

সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, মানবপাচার ও সিন্ডিকেট দমনে সরকার সক্রিয় এবং দুদক ও বিএমইটি যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাস্তবচিত্র বলছে, অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।