ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 231

ছবি সংগৃহীত

 

 

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আজ রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নড়িয়া পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন  সাত বছর পর আজ বিএনপির বর্ধিত সভা: তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে গঠন হবে নির্বাচনী পরিকল্পনা

জানা গেছে, পদ্মা নদীর ডান তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘নড়িয়ার সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে একটি পক্ষ আন্দোলন করে যাচ্ছে। গত ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তারা মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে। এতে অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টু, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এস এম ফয়সাল, ও মহিলা দল নেত্রী শামীমা জামানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ দাবি করছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি নিলামে অংশ নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। রয়েলের ভাষ্যমতে, তাদের কার্যক্রম বৈধ হলেও একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা বন্ধের চেষ্টা করছে এবং আন্দোলনকারীদের আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার রাতে আন্দোলনকারী পক্ষ আবার বিক্ষোভের ডাক দেয়, আর রবিবার পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে রয়েলপন্থীরা। এ অবস্থায় সংঘাত এড়াতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রয়েলপন্থীরা চরআত্রা ও চরনড়িয়া এলাকায় প্রায় ৩০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে, যা বাঁধ এবং আশপাশের ফসলি জমির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ আহমেদ রয়েল প্রায় পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামে কিনেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। এরপর ১,৪১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে নদীর ডান তীরে ১০.২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ফেলা হয়।

নড়িয়ার ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “বালু উত্তোলনের ইস্যুটি এখন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের রূপ নিয়েছে। তাই ১৪৪ ধারা জারি করে সভা, মিছিল, মাইকিং ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

অন্যদিকে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন ঝিন্টু অভিযোগ করে বলেন, বৈধতার নামে নদীর গভীর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলেই নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় ০৫:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

 

 

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আজ রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নড়িয়া পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন  বাগেরহাটে বিএনপির সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, স্থগিত সভা

জানা গেছে, পদ্মা নদীর ডান তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘নড়িয়ার সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে একটি পক্ষ আন্দোলন করে যাচ্ছে। গত ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তারা মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে। এতে অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টু, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এস এম ফয়সাল, ও মহিলা দল নেত্রী শামীমা জামানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ দাবি করছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি নিলামে অংশ নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। রয়েলের ভাষ্যমতে, তাদের কার্যক্রম বৈধ হলেও একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা বন্ধের চেষ্টা করছে এবং আন্দোলনকারীদের আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার রাতে আন্দোলনকারী পক্ষ আবার বিক্ষোভের ডাক দেয়, আর রবিবার পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে রয়েলপন্থীরা। এ অবস্থায় সংঘাত এড়াতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রয়েলপন্থীরা চরআত্রা ও চরনড়িয়া এলাকায় প্রায় ৩০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে, যা বাঁধ এবং আশপাশের ফসলি জমির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ আহমেদ রয়েল প্রায় পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামে কিনেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। এরপর ১,৪১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে নদীর ডান তীরে ১০.২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ফেলা হয়।

নড়িয়ার ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “বালু উত্তোলনের ইস্যুটি এখন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের রূপ নিয়েছে। তাই ১৪৪ ধারা জারি করে সভা, মিছিল, মাইকিং ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

অন্যদিকে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন ঝিন্টু অভিযোগ করে বলেন, বৈধতার নামে নদীর গভীর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলেই নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।