ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি, নিহত ৫২, আহত বহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 119

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দিনভর বোমাবর্ষণে আরও অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন  সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর—তিন অঞ্চলেই ইসরায়েলি বাহিনী সমানভাবে হামলা চালিয়েছে। শনিবারের আক্রমণ ছিল ভয়াবহ। গাজা শহর ও উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে শুক্রবার রাতে চালানো একযোগে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৬২ জন। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন গাজা সিটির ও উত্তর গাজার বাসিন্দা।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির নতুন কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। হামাস ইসরায়েলের দেওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসাথে সংগঠনটি বন্দি বিনিময়ের শর্তে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান চেয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “গাজায় আমাদের সামরিক অভিযান চলবে, যতক্ষণ না আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।”

বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার আশপাশে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। শাবৌর ও তেল আস সুলতান এলাকার ঘাঁটি থেকে সর্বশেষ বিমান হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ওই এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের সারি। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু বাড়িঘর। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা সংকটে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অনেকেই আহতদের নিয়ে হাসপাতালে গেলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলছে না ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাবে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে রক্তাক্ত হচ্ছে উপত্যকাটি।

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে বহু দেশ ও সংস্থা। তবে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান অনড় থাকায় সেই সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে উঠছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি, নিহত ৫২, আহত বহু

আপডেট সময় ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

 

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দিনভর বোমাবর্ষণে আরও অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন  “ইসরায়েলের জন্য তুরস্ক একটি হুমকি” - দাবি করেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর—তিন অঞ্চলেই ইসরায়েলি বাহিনী সমানভাবে হামলা চালিয়েছে। শনিবারের আক্রমণ ছিল ভয়াবহ। গাজা শহর ও উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে শুক্রবার রাতে চালানো একযোগে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৬২ জন। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন গাজা সিটির ও উত্তর গাজার বাসিন্দা।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির নতুন কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। হামাস ইসরায়েলের দেওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসাথে সংগঠনটি বন্দি বিনিময়ের শর্তে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান চেয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “গাজায় আমাদের সামরিক অভিযান চলবে, যতক্ষণ না আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।”

বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার আশপাশে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। শাবৌর ও তেল আস সুলতান এলাকার ঘাঁটি থেকে সর্বশেষ বিমান হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ওই এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের সারি। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু বাড়িঘর। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা সংকটে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অনেকেই আহতদের নিয়ে হাসপাতালে গেলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলছে না ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাবে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে রক্তাক্ত হচ্ছে উপত্যকাটি।

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে বহু দেশ ও সংস্থা। তবে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান অনড় থাকায় সেই সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে উঠছে।