ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের মানববন্ধন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 2062

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। তাদের ওপর আরোপিত তথাকথিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্তকে শরিয়াহবিরোধী, চুক্তিভঙ্গ ও আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আজ রবিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক ভুক্তভোগী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরত এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে জানায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না, যা পরবর্তীতে সংশোধন করে মাত্র ৪ শতাংশ করার কথা বলা হয়। আমানতকারীদের মতে, নির্দিষ্ট শর্তে ব্যাংকে টাকা রাখা একটি আইনি ও নৈতিক চুক্তি। হঠাৎ করে এই শর্ত পরিবর্তন করা ব্যাংকিং রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মুদারাবাহ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দায় আমানতকারীদের বহন করার কথা নয়, তাই এই সিদ্ধান্ত সরাসরি শরিয়াহ পরিপন্থী।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান, অনেকেরই সংসারের খরচ চলে এই জমানো টাকার মুনাফা দিয়ে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যাংকের দুর্নীতির দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হবে, যা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ধ্বংস করে দেবে। মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—হেয়ারকাট বাতিল, এফডিআর ও ডিপিএস ভাঙার অধিকার নিশ্চিত করা, নতুন-পুরোনো আমানতকারীদের সমান অধিকার প্রদান এবং অনলাইন সেবাগুলো দ্রুত চালু করা।

আরও পড়ুন  সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর

আমানতকারীরা স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দাবি মানা না হলে এবং টাকা ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া না হলে সারা দেশের সব শাখায় একযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৫:২৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। তাদের ওপর আরোপিত তথাকথিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্তকে শরিয়াহবিরোধী, চুক্তিভঙ্গ ও আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আজ রবিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক ভুক্তভোগী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরত এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে জানায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না, যা পরবর্তীতে সংশোধন করে মাত্র ৪ শতাংশ করার কথা বলা হয়। আমানতকারীদের মতে, নির্দিষ্ট শর্তে ব্যাংকে টাকা রাখা একটি আইনি ও নৈতিক চুক্তি। হঠাৎ করে এই শর্ত পরিবর্তন করা ব্যাংকিং রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মুদারাবাহ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দায় আমানতকারীদের বহন করার কথা নয়, তাই এই সিদ্ধান্ত সরাসরি শরিয়াহ পরিপন্থী।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান, অনেকেরই সংসারের খরচ চলে এই জমানো টাকার মুনাফা দিয়ে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যাংকের দুর্নীতির দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হবে, যা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ধ্বংস করে দেবে। মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—হেয়ারকাট বাতিল, এফডিআর ও ডিপিএস ভাঙার অধিকার নিশ্চিত করা, নতুন-পুরোনো আমানতকারীদের সমান অধিকার প্রদান এবং অনলাইন সেবাগুলো দ্রুত চালু করা।

আরও পড়ুন  পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নীতিমালায় পরিবর্তন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আমানতকারীরা স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দাবি মানা না হলে এবং টাকা ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া না হলে সারা দেশের সব শাখায় একযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।