ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫০ বছর পর আবার চাঁদের পথে মানুষ, আর্টেমিস–২ মিশন প্রস্তুতির শেষ ধাপে: নাসার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 138

ছবি সংগৃহীত

 

প্রায় ৫০ বছর পর আবারও চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস–২’ মিশনকে সামনে রেখে এখন শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সংস্থাটি। এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। 

এর আগে ২০২৪ সালে নাসা জানিয়েছিল, বিভিন্ন কারিগরি ও সময়সূচির কারণে মিশনটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নেওয়া হবে। তবে সাম্প্রতিক হালনাগাদ পরিকল্পনায় সংস্থাটি বলছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই উৎক্ষেপণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য প্রথম তারিখ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারির কথা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  এই প্রথম চাঁদে বাণিজ্যিক নভোযান পাঠাচ্ছে নাসা

মিশনের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেট এবং ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে রকেট ও মহাকাশযানটির প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। নাসার লক্ষ্য, ১৭ জানুয়ারির পর এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

তবে উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময়সূচি পুরোপুরি নির্ভর করবে আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটি সমাধানে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট এমনটাই জানিয়েছে।

১৯৭২ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানের পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মিশন চাঁদের পথে যাচ্ছে। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী। নাসার কমান্ডার হিসেবে থাকছেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলটের দায়িত্বে ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ। এ ছাড়া কানাডার মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেনও দলে রয়েছেন।

এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো ওরিয়ন মহাকাশযানের বিভিন্ন জীবন-রক্ষাকারী প্রযুক্তি ও সিস্টেম বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করা। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র ও মহাকাশ অভিযানে এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করা হবে এই মিশনের মাধ্যমে।

নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করবেন। এরপর চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করে পৃথিবী থেকে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ কিলোমিটার দূরে পৌঁছাবেন তারা।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জানুয়ারির শেষ দিকে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামে পূর্ণাঙ্গ মহড়ার আয়োজন করবে নাসা। এই মহড়ায় রকেটে জ্বালানি ভরা হবে এবং বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করেই পুরো কাউন্টডাউন প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।
এই মিশন সফল হলে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি এবং মঙ্গল অভিযানের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছে নাসা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

৫০ বছর পর আবার চাঁদের পথে মানুষ, আর্টেমিস–২ মিশন প্রস্তুতির শেষ ধাপে: নাসার

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

প্রায় ৫০ বছর পর আবারও চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস–২’ মিশনকে সামনে রেখে এখন শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সংস্থাটি। এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। 

এর আগে ২০২৪ সালে নাসা জানিয়েছিল, বিভিন্ন কারিগরি ও সময়সূচির কারণে মিশনটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নেওয়া হবে। তবে সাম্প্রতিক হালনাগাদ পরিকল্পনায় সংস্থাটি বলছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই উৎক্ষেপণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য প্রথম তারিখ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারির কথা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চাঁদে নাম পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে নাসা

মিশনের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেট এবং ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে রকেট ও মহাকাশযানটির প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। নাসার লক্ষ্য, ১৭ জানুয়ারির পর এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

তবে উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময়সূচি পুরোপুরি নির্ভর করবে আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটি সমাধানে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট এমনটাই জানিয়েছে।

১৯৭২ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানের পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মিশন চাঁদের পথে যাচ্ছে। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী। নাসার কমান্ডার হিসেবে থাকছেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলটের দায়িত্বে ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ। এ ছাড়া কানাডার মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেনও দলে রয়েছেন।

এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো ওরিয়ন মহাকাশযানের বিভিন্ন জীবন-রক্ষাকারী প্রযুক্তি ও সিস্টেম বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করা। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র ও মহাকাশ অভিযানে এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করা হবে এই মিশনের মাধ্যমে।

নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করবেন। এরপর চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করে পৃথিবী থেকে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ কিলোমিটার দূরে পৌঁছাবেন তারা।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জানুয়ারির শেষ দিকে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামে পূর্ণাঙ্গ মহড়ার আয়োজন করবে নাসা। এই মহড়ায় রকেটে জ্বালানি ভরা হবে এবং বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করেই পুরো কাউন্টডাউন প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।
এই মিশন সফল হলে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি এবং মঙ্গল অভিযানের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছে নাসা।